 |
নিউইয়র্ক : অনেক দিয়েছি, এবার ফেরৎ নেবার পালা।বাংলাদেশি আমেরিকানরা শুধু দিয়েই যাবে তা নয়। নিউইয়র্কে স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ড্যানি ফিগুয়েরোয়ার জন্যে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ডেমোক্রেট আকতার হোসেন বাদলের এমন বক্তব্যে চমকে উঠলেন ড্যানি ফিগুয়েরোয়া।
কৌশলে তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মত আমিও এক সময় তা অনুভব করেছি। আমি এ ধরনের মনোভাবকে স্বাগত জানাই। আমেরিকার বিশেষতই এটি। এখানে আজ যারা নতুন, দুদিন পর তারাই মূলধারা।
তবে এজন্যে বাংলাদেশিদের আরো সুসংগঠিত হতে হবে। আরো দলবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের ক্ষমতা অনেক বেশী আমেরিকার রাজনীতিতে।’ তিনি আরো বললেন, আমেরিকা হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টদের দেশ। এখানে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান। সে অধিকার ভোগের জন্যে চাই সচেতনতা।
গত ৮ জুলাই অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার এলাকায় অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ এর নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হন অনেক বাংলাদেশি। এর হোস্ট বাংলাদেশি নাসরীন আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট এন মজুমদার।
পড়ন্ত বিকেলের এ সমাবেশে অনেকেই কথা বলেছেন আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে। তবে তা কখনোই গতানুগতিক ছিল না। প্রাণ খুলে মিশেছেন ড্যানি ফিগুয়েরোয়া। তিনি বলেছেন, আমার মা-বাবাও এদেশে এসেছিলেন একগুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে।
সে স্বপ্নের বাস্তবায়নে তারাও নিরন্তরভাবে শ্রম দিয়েছেন। আমার মাধ্যমে তাদের সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে চেয়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত আমি এই অঞ্চলের মানুষের সাথে মিশেছি, আজ আপনাদের কাছে এসেছি আমার স্প্যানিশ মা-বাবার আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের জন্যেই শুধু নয়- বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অধিকার সুসংহত করতেও।
বাংলাদেশি আমেরিকান বিজনেসম্যান আকতার হোসেন বাদল ছিলেন এ অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর এবং তার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে ড্যানি বলেন, সকলেরই এ ধরনের মনোভাব জাগ্রত হওয়া দরকার। তাহলে কম্যুনিটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। বাদল তার বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেছেন, চলমান মন্দার কারণে অসংখ্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে নানা ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশিরা এখনও ফেডারেল ও স্টেট প্রশাসন প্রদত্ত অনেক সুযোগ ঠিকমত পাচ্ছেন না। এ অবস্থার অবসানে স্টেট পার্লামেন্টকে আরো মনোযোগী হতে হবে। তিনি বলেন, আজ আর অজানা নেই, এই আমেরিকার সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বাংলাদেশিরাও নিরলসভাবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশিরা শান্তিপ্রিয় কম্যুনিটির অন্যতম উদাহরণে পরিণত হয়েছেন বহুজাতিক এই নগরীতে। বাদল বলেন, আজ আমরা স্টেট পার্লামেন্টে ভিনদেশী প্রার্থীর জন্যে জোটবদ্ধ হয়েছি। কাল আমরাই যাতে প্রার্থী হতে পারি সেজন্য সুসংগঠিত হতে হবে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল অথবা কম্যুনিটি বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের মূলধারায় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্তির পথের শুভ সূচনা ঘটাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফেলে আসা স্বদেশের কল্যাণে কিছু করার জন্যেও মূলধারায় জোরদারভাবে সম্পৃক্ত হবার বিকল্প নেই। আজ আমাদেরকে ধরনা দিতে হচ্ছে ভিনদেশি অ্যাসেম্বলিম্যান অথবা কংগ্রেসম্যান কিংবা সিনেটরের কাছে।
অথচ আমরাই হতে পারি কংগ্রেসম্যান অথবা অ্যাসেম্বলিম্যান। সেদিকে না এগিয়ে আমরা বাংলাদেশি রাজনীতির নামে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে রয়েছি। তিনি বলেন, আমেরিকার বহু পুরনো ও পরিশীলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারীর সাথেও সৌহার্দমূলক আচরণ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানরা যেমন ঐক্যবদ্ধ হতে দ্বিধা করেন না, আমাদের দেশের আ‘লীগ-বিএনপিকেও তা করতে হবে।
নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টের এ প্রার্থী বলেন, ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার সুরক্ষার আইন হয়েছে। আসছে নভেম্বরের নির্বাচনে আমাকে বিপুল বিজয় দেয়া হলে আমি প্রথমেই মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের দুটি দিন (ঈদ) সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পরিণত করার বিল উত্থাপন করবো।
এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্যায়ভাবে চিহ্নিত করার যে কৌশল বিভিন্নভাবে চালানো হচ্ছে তার অবসানেও পদক্ষেপ নেব। সমাবেশে ম্যানহাটান কাউন্টি ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী জেনিফার রাজকুমার বলেন, আমার মা-বাবাও ভারত থেকে এসেছেন। আমরাও লড়াই করছি মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে।
এ লড়াইয়ে বাংলাদেশি, পাকিস্তানিসহ দক্ষিণ এশিয়ার সকলের জোটবদ্ধ হবার প্রয়োজন রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় বাংলাদেশি ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের বেশী। তারা সংঘবদ্ধ হয়েছেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির ব্যানারে। এরআগে তারা সংঘবদ্ধ দাবি জানিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ এলাকার নাম পাল্টিয়ে ‘বাংলাবাজার অ্যাভিনিউ’ করতেও সক্ষম হয়েছেন।
নির্বাচনী এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন শেখ আল মামুন, আব্দুস শহীদ, প্রমী প্রমুখ। এ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশি আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিল, বাংলাদেশ উইমেন সোসাইটি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটি, ব্রঙ্ক পুজো কমিটি, সনাতনী সেবাসংঘ এবং ফ্রেন্ডস সোসাইটি।
বাংলাদেশ সময় : ২২১৫ ঘন্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এলএ/সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর kumar.sarkerbd@gmail.com