ঢাকা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেছেন, কালো জাতের ছাগলের উৎপাদন বাড়িয়ে রফতানি করলে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ দেশের কালো ছাগলের মাংস এবং চামড়ার প্রচুর চাহিদা রয়েছে বিদেশে।
তিনি বলেন, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে এ মাংস রফতানি করা সম্ভব। তাই সরকার এ ব্যপারে ভাবছে। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।
রোববার রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘দারিদ্র্য বিমোচনে কালো জাতের ছাগল পালন- সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্প (এনএটিপি) ও নির্বাচিত ২৩ জেলার ক্ষুদ্র খামারিদের গবাদি পশু লালন-পালনে সহায়তা দিতে ছাগল পালন, উন্নয়ন ও সংরক্ষণে দরিদ্র জনগণকে ওষুধ, টিকা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ ফলপ্রসূ হলে তা দেশের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রেখে বিরাট সম্পদে পরিণত হবে।
লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘‘মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলতে আমরা শুধু খাদ্যশস্যকেই বোঝাই। কিন্তু প্রাণিজ আমিষের ৯০ শতাংশ চাহিদা মেটাই পশুসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ দিয়ে। মেধাসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে প্রাণিজ আমিষের কোনো বিকল্প নাই।’’
লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই ছাগল পালনে অভ্যস্ত। প্রাণিসম্পদ উপ-খাতের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা কৃষিখাতের ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশের জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী সরাসরি ও ৫০ শতাংশ আংশিকভাবে পশুসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালন বাড়াতে হবে।’’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রফিকুল হক, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফ আলী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ গবেষণা শাখার গবেষক অধ্যাপক ওমর ফারুকসহ কৃষিবিদরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফ আলী বলেন, ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাংসের জন্য ছাগল পালন করতে হলে বাংলার কৃষ্ণকায় জাতের ‘ব্লাক বেঙ্গল গোট’ বেশ ভালো এবং পরীক্ষিত৷ বাজারে এই মাংসের চাহিদা, দাম ও সুনাম রয়েছে। দেশের প্রায় সব অঞ্চল জুড়েই প্রত্যন্ত কৃষি পরিবারের ঘরে ঘরে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল মোটাতাজাকরণের প্রচলন রয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে।
তিনি বলেন, শহরে এখন ছাগলের খামার তৈরি করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন করা হচ্ছে। রফতানির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এটার মাধ্যমে একটি বড় ব্যবসা হতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এ ব্যপারে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩২৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১২
এমআইআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com