 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএন স্পিনিং কোম্পানির রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারির দায়ে কোম্পানির সচিব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স-১৯৬৯ এর ২০ (এ) ধারার ক্ষমতা বলে বিএসইসি কোম্পানির সচিব মো. হুমায়ুন কবীর এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাদের ফারুককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সূত্র জানায়, আগামী ৫ বছর এই দুই ব্যক্তি বিএসইসি’র সঙ্গে সর্ম্পকিত রয়েছেন এমন প্রতিষ্ঠানেরও কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, আরএন স্পিনিং লিমিটেডের রাইট শেয়ার নিয়ে বড় ধরনের কারসাজির প্রমাণ পেয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তদন্তে রাইট শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির স্পন্সর/উদ্যোক্তা পরিচালকেরা অনৈতিকভাবে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
তদন্তে জানা গেছে, কোম্পানিটির তিনজন উদ্যোক্তা পরিচালক রাইট সাবস্ক্রিপশনের আগে সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রায় ১৯৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। আর এতে তাদের লাভ হয়েছে, প্রায় ১৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
জানা যায়, কোম্পানিটির আইপিও পুঁজিবাজারে আসার আগে স্পন্সর/উদ্যোক্তা, পরিচালকদের কাছে মোট ৬৯ শতাংশ শেয়ার ছিল। কিন্তু রাইট সাবস্ক্রিপশন শুরু হওয়ার আগে পরিচালকরা তাদের প্রায় অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করে দেন।
বর্তমানে তাদের কাছে মাত্র ৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এছাড়া, কোম্পানিটির কমন পরিচালক প্রতিষ্ঠান চং ওন এআরএস সোয়েটার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে ডিএসই’র তদন্ত কমিটি।
উল্লেখ্য, আরএন স্পিনিং লিমিটেড রাইট শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বৃদ্ধির সময় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্ত কমিটি গঠন করে।
পরে যারা রাইট শেয়ারের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। একইসঙ্গে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ও অবলেখনকারী (আন্ডার রাইটার) প্রতিষ্ঠানের রাইট শেয়ার বিতরণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এর পর আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে কারসাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএসই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসই পরিচালক আবুল হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদ্যসের কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, কোম্পানির ইস্যু করা প্রায় ২৭৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার সমমূল্যের রাইট শেয়ারের মধ্যে ১৮০ কোটি টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি বা আন্ডার সাবস্ক্রাইবড হয়েছে। এর অধিকাংশই ছিল কোম্পানির পরিচালকদের।
ওয়াদাবদ্ধ হয়েও পরিচালকেরা নির্ধারিত সময়ে রাইটের টাকা জমা দেননি। ফলে, নিয়ম অনুযায়ী, আন্ডাররাইট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিক্রিত ওই সব শেয়ার কেনার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তা করেনি।
জানা যায়, আরএন স্পিনিং শেয়ার হোল্ডারদের জন্য একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার দিয়েছে। কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৪১ হাজার ২৩০টি শেয়ার ছাড়ার অনুমতি পায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০১৩
এসএনএইচ/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর