 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ফিকার অস্তিত্বই মানে না। সেখানে ফিকা সিইও টিম মে কি বললেন আর না বললেন তাতে আমল দেওয়ার কথা নয়। বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালও বলেছেন ফিকাকে কোনো জবাব দিবেন না। জবাব দিলে ফিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে!
যে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মানে না সেই ফিকা সিইও’র বক্তব্য নিয়ে বিসিবি কর্তাব্যক্তিরা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন কেন? কেন জরুরী বৈঠক করে বিপিএলে খেলোয়াড়দের সম্মানী পরিশোধের হিসেব দিচ্ছেন? কেন বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিম মে’র বক্তব্যের জবাব দিয়েছে? তাহলে কি ভয় পেয়ে এতকিছু করেছেন বিসিবির কর্মকর্তারা?
খেলোয়াড়দের সম্মানী প্রদানের হিসেব জানতে মঙ্গলবার ফ্রেঞ্চাইজি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এবং বিসিবি সভাপতি বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে ফ্রেঞ্চাইজিরা যে হিসেব দিয়েছেন খুশি মনে তা নথিভুক্ত করেছেন বিসিবি সভাপতি। বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মানীর বেশিরভাগ পরিশোধ হয়ে গেছে তা ঠিক। কিন্তু স্থানীয় ক্রিকেটারদের সম্মানী পরিশোধের যে তথ্য মোস্তফা কামাল দিলেন তার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্টো ফ্রেঞ্চাইজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ক্রিকেটারদের পটিয়ে চুক্তির অর্ধেক টাকা দিয়ে বিদেয় করার চেষ্টা হচ্ছে। কোন কোন ফ্রেঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের চেক দিয়ে রেখেছেন কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে তা ক্যাশ করা যাচ্ছে না। আবার অনেক চেক দেওয়া হয়েছে দুই থেকে তিন মাস পরের তারিখের। আইনের ভাষায় একে বলে ঠকবাজি! ফ্রেঞ্চাইজিদের এমন কূটকৌশলে খেলোয়াড়রা বিরক্ত হতেই পারেন।
বিসিবি সভাপতি মঙ্গলবার যে ফিরিস্তি দিয়েছেন তাতে একঝলক চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক,‘বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তির মোট অর্থ ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ৩ লাখ ডলারের মত বাকি। এর মধ্যেও কথা আছে। কেউ আয়কর দিতে চাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ ইনজুরি লুকিয়ে এসেছিলেন। সেসব ঘিরে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার এবং ফ্রেঞ্চাইজির আলোচনা চলছে বিধায় তিন লাখ ডলারের মতো এখনো বাকি রয়ে গেছে। এটা নিয়ে হৈ চৈয়ের উদ্দেশ্যটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। প্রথমবার এত বড় মাপের একটা টুর্নামেন্ট ৮৯ ভাগ পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। দ্বিতীয়বার আমরা আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে পারব। তাতে এ জাতীয় সমস্যা আর থাকবে না। ইনজুরি লুকিয়ে খেলতে আসা কোনো ক্রিকেটারকে কেউ পেমেন্ট করা হবে না। আর আয়কর সবাইকেই দিতে হবে। তো, এসব হিসাব নিকেশে করে দেখা যাচ্ছে ৩ লাখও না, বড়জোর ২ লাখ ডলার পাওনা আছে। সেটা দু-একদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। আর হাজার চল্লিশেক ডলারের বিরোধটা থেকেই যাবে। আয়কর এবং ইনজুরিই এর মূল কারণ।
ফ্রেঞ্চাইজিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেটাররা আশি ভাগ পাওনা পেয়ে গেছেন। বাকি ২০ ভাগ সর্বোচ্চ ৭-১০ দিনের মধ্যে করে ফেলা হবে। আমি মনে করি এটাও ঠিক আছে। এখন বিপিএল ছাড়াও এ ধরনের টুর্ণামেন্টের পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশে হয়। আমি কোন টুর্নামেন্টের নাম বলব না। সেখানে আমাদের চেয়েও বেশি বকেয়া আছে। দুর্ভাগ্য আমাদের যে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে আমরা এখনো অতটা উঁচুতে পৌঁছাতে পারিনি বলেই আমাদের বিষোদগার করা হয়েছে। আমি শুধু এটুকু বলবো কেউ না কেউ, কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। সে জন্যই এ ধরনের কথাবার্তা এসেছে।
আমি আগেও বলেছি যে কোন ফ্রেঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ না করলে বিসিবি সে দায় নিবে। এ আশ্বাস দেয়ার পরও ফিকা কিংবা অন্য কোন সংগঠন, যা-ই বলেন না কেন, কারও এ ধরনের মন্তব্য করার অধিকার নেই। ফিকাকে তো আমরা ‘রিকগনাইজ’ই করি না। সেসবের জবাব আমরা দিতে পারতাম। যারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাদের আমরা কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারতাম। কিন্তু ক্রিকেটের স্বার্থে আমি এ কাজটি করতে চাই না। বিপিএলের একটি গভর্নিং কাউন্সিল আছে। সেখানে আমার অবস্থান নিয়েও কথা উঠেছে। ক্রিকেটের জন্য আমার চেয়ে ভালো অবস্থান কারও নেই। যিনি মন্তব্য করেছেন, তার চেয়ে আমি লক্ষ কোটিগুণ ভালো। আমাদের দেশে গর্ডন গ্রিনিজ থেকে শুরু করে স্টুয়ার্ট ল’র মত নামী কোচ চাকরি করে গেছেন। তারা কেউ বলতে পারবেন না যে একটি ডলার পাওনা আছে। সেই ফেয়ারব্রাদার, ওয়াসিম আকরাম থেকে ইকবাল আব্দুল্লাহদের কেউ পেমেন্ট নিয়ে অভিযোগ করেনি। আমাদের এ ক্রিকেট সংস্কৃতি আজকের না। আমি মনে করি এক্ষেত্রে আমরা খুবই সফল।
বোর্ডের পক্ষ থেকে টিম মে’কে উত্তর দিলে পরোক্ষে ফিকাকে অনুমোদন করা হয়ে যাবে। আমরা ফিকাকে রিকগনাইজ করি না। ফিকা তো লেবার ইউনিয়নের মত। তাদের ব্যবহার এবং কথাবার্তার ধরনে তা-ই মনে হয়। ২.৭ মিলিয়ন ডলার কাকে পেমেন্ট করেছি? প্লেয়াররা পেয়েছে। বিপিএল করা কি অপরাধ হয়েছে? বিপিএল করাতে সবচেয়ে লাভবান কারা? প্লেয়াররা। ওরাই টাকাটা পেয়েছে। পারলে টিম মে এরকম একটা টুর্নামেন্ট করে দেখান না! ফিকাকে শুধুমাত্র এ কারণেই ভয় পাই। সে কারণে প্রতিবেশি ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা ফিকাকে অনুমোদন দেয়নি। আমরাও করি না। কারণ তাদের আচরণ লেবার ইউনিয়নের মত। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। ভদ্রলোকরা খেলাটা চালায়। আমার পিছনে যারা আছেন, তারা কি পেমেন্ট না দিয়ে পালিয়ে যাবেন নাকি? সবাই আলোকিত মানুষ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল তারা। এদেশের জন্য তাদের অনেক অবদান। টিম মে আমাদের সম্পর্কে কতটুকু জানেন? টিম মে একটা চিঠিতেও লেখেননি কোনো ক্রিকেটার কত টাকা পাওনা আছে। সমালোচনা করছেন সাধারণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে। বিপিএলের কোনো ক্রিকেটার টিম মে’র মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে নাই। ক্রিকেটারদের এজেন্ট আছে। বোর্ড থেকে সে সব এজেন্টের প্রত্যেকের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সেসবের ভিত্তিতে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি এ পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার কিংবা তার এজেন্ট পাওনা নিয়ে কোনো অভিযোগ বিসিবিতে কোনো চিঠি পাঠায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ২০২২ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর