 |
ঢাকা: পুঁজিবাজার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। মোট সাত ধাপে এ মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে মোট ৮৫টি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ হবে ২০২২ সাল পর্যন্ত।
মহাপরিকল্পনার সাত নম্বর সুপারিশের মধ্যে মোট ছয় ধরনের কর দূরীকরণের সুপারিশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ডাবল ট্যাক্সেশন ও অতিরিক্ত করারোপের কারণে দেশের বিদ্যমান কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিবেদনে ভুল তথ্য বা কম আয় দেখায় বলেও মন্তব্য করা হয় এ মহাপরিকল্পনায়। এতে আরো বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক করের হার অনেক বেশি।
এ ধরনের অবস্থা থেকে উত্তরণে ছয় ধরনের কর কমানোর পরিকল্পনাও এতে রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার সবগুলোই কার্যকর করতে হবে অর্থমন্ত্রণালয়কে।
যে ছয় ধরনের কর কামানোর পরিকল্পনা রয়েছে এসইসি’র, এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ কর, দৈত কর দূরীকরণ, বন্ডের লেনদেনের ওপর আরোপিত কর দূরীকরণ প্রভৃতি।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করে এসইসি। যা সোমবার বিস্তারিতভাবে এসইসি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার ৮৫টির কোনটি সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়কে বাস্তবায়ন করতে হবে তাও সুপারিশে বলা হয়েছে।
এদিকে মহাপরিকল্পনা মোট চার ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে একই বাস্তবায়নযোগ্য, দ্বিতীয় ধাপে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে, মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।
মহাপরিকল্পনায় এসইসি’র স্বাধীনতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারক হিসেবে এসইসিকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমূক্ত রাখতে হবে, এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশাসনিক ভাবেও নিজস্ব বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে দিতে হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরও পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যেতে হবে। একই সঙ্গে এসইসি’র আর্থিক স্বাধীনতাও এজন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন বলে মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া কমিশনের জনবল সমস্য নিয়ে এ ধরনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না মন্তব্য করে এতে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল ধরে রাখার জন্য আকর্ষনীয় হতে হবে, যা কমিশন নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে মোট ৯টি পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে এসইসি’র মহাপরিকল্পনায়।
বাংলাদেশ সময়: ০০৪৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর eic@banglanews24.com