চট্টগ্রাম : বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মানুষ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় কোলাহলমুখর চট্টগ্রাম নগরী এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। আর ফাঁকা হয়ে যাওয়া এ নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব ও পুলিশ।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) বনজ কুমার মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, আবাসিক এলাকা, মানুষের বাসাবাড়িকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা ঈদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছি। সে অনুযায়ী আমরা কাজও শুরু করে দিয়েছি। টহল টিম, গোয়েন্দা টিমের মাধ্যমে আমরা পুরো নগরীতে নিরাপত্তার জাল তৈরি করেছি।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আনোয়ার লতিফ খান বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের একদিন আগে, ঈদের দিন এবং ঈদের পর আরও দু’দিনকে স্পর্শকাতর সময় ধরে আমরা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা এ সময়ে আবাসিক এলাকা, বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অফিস এলাকায় টহল ও সার্বক্ষণিক অবস্থান নেব।
জাতীয় শোক দিবস, শবে বরাত এবং ঈদ মিলিয়ে ১১ দিনের ছুটির সুযোগে গত মঙ্গলবার থেকেই মানুষ চট্টগ্রাম নগর ছাড়তে শুরু করেছেন। সর্বশেষ শুক্রবারও দলে দলে বন্দরনগর ছেড়েছে মানুষ।
ফলে শুক্রবার রাত থেকেই কোলাহলমুখর চট্টগ্রাম অন্যরকম এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। মানুষের তেমন ভীড় নেই, রাস্তায় যানবাহনেরও তেমন চাপ নেই। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমলগুলো খোলা থাকলেও সেখানে ভীড় আস্তে আস্তে কমে আসছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের আশংকা, ঈদের ছুটির কারণে নগরী ফাঁকা পেয়ে চোর, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তালাবদ্ধ বাসাবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙ্গে, গ্রিল কোটাসহ বিভিন্ন উপায়ে চুরির ঘটনা ঘটতে পারে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য আছে। এর মধ্যে দেড় হাজারের মত ছুটিতে গেছে। বাকি সব সদস্য এ মুহূর্তে মাঠে আছেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা পুলিশের মোট ৬টি টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এরমধ্যে মোটরসাইকেল টিম আছে দু’টি। প্রতি টিমে আটজন করে সদস্য আছে বলে তিনি জানান।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নগরের ১২টি থানার প্রতিটিতে সার্বক্ষণিক ৮টি করে টহল টিম তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে এসব টিম মাঠে নেমেছে। প্রতি টিমে ১২ জন করে সদস্য আছে।
আবার এলাকার গুরুত্ব ও আগের অপরাধ বিবেচনায় দু’টি থানায় আরও দু’টি করে অতিরিক্ত টহল টিম দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ঈদ জামাতে একজন উপ-পরিদর্শকের নেতৃত্বে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে নগরের যে জামাতগুলোতে লোক সমাগম সবচেয়ে বেশি হয় সেগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, মার্কেট, শপিংমলগুলোতে যে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের আস্তে আস্তে নিয়ে আসা হচ্ছে।
তাদের নিয়মিত ও বিশেষ পেট্রল টিমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। প্রত্যেক ক্রাইম ডিভিশনের আলাদা-আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
র্যাব সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় র্যাব সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। গাড়িতে চড়ে ৪টি গ্রুপে ৮টি টিম, মোটর সাইকেলে চড়ে র্যাবের ৮টি গ্রুপে ১৬টি টিম এবং প্রত্যেক এলাকায় একটি করে সাদা পোশাকধারী টিম কাজ করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবার আগে টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ থানায় জমা দিয়ে যাবার জন্য পুলিশ কমিশনার পরামর্শ দিলেও শনিবার পর্যন্ত কোন থানায় এমন কোন সম্পদ জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম থানায় জিডি করে সম্পদ জমা দেয়ার এ নতুন ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৫৩৩ ঘন্টা, আগস্ট ১৮, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর
Kumar.sarkerbd@gmail.com