১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, রবিবার মে ২৬, ২০১৩ ৩:৩৩ এএম BDST banglanew24
16 May 2012   10:35:11 PM   Wednesday BdST
E-mail this

সৌদিকরণ আতংক: খালি হাতে ফিরছেন শত বাংলাদেশি


মোহাম্মদ আল-আমীন, সৌদি আরব থেকে
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সৌদিকরণ আতংক: খালি হাতে ফিরছেন শত বাংলাদেশি

রিয়াদ : গত ৩১ মে ২০১১ সৌদি সরকার সৌদি নাগরিকদের বেকারত্ব কমানোর লক্ষে নিতাকাত বা সৌদিকরণ বিল পাশ করেছে। সে অনুযায়ী এখানকার সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সৌদি কর্মীদের পার্সেন্টেজ হিসাব করে তার ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি ৩টি হলো, লাল ক্যাটাগরি, হলুদ ক্যাটাগরি ও সবুজ ক্যাটাগরি।

এদিকে, নিতাকাত বা সৌদিকরণের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অসহায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর।

নিতাকাতের পেছনে সৌদি নাগরিকদের বিলাসিতাকে একটি বড় কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেক বেকার সৌদি নাগরিক তাদের বিলাসিতার জন্য ভুয়া বা প্রয়োজন নাই এমন সব খাত দেখিয়ে ভিসা উঠিয়ে ‘ফ্রি ভিসা’ বলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করেছে। শর্ত হচ্ছে- তারা এখানে এসে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বাহিরে কাজ করবে আকামা, মেডিকেল, ইনস্যুরেন্সসহ যাবতীয় খরচ সে নিজেই বহন করবে এবং প্রতি মাসে ২০০/৫০০ রিয়াল অনেকাংশে বার্ষিক ৫০০০/৮০০০ রিয়াল সেই কফিলকে (সেলামি হিসেবে) দিতে হবে।

তাতেও প্রবাসীদের কোনো সমস্যা ছিলোনা। প্রবাসীরা এ ব্যবস্থায়ও রাজী হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত ছিলো এবং এখনও আছে। শত কষ্ট সয়েও এর মাঝেও সীমিত সুখ খুঁজে নিত সৌদি প্রবাসী শ্রমিকরা। কিন্তু এখন তাতেও বাধ সাধলো নিতাকাত বা সৌদিকরণ প্রকল্প।

নিতাকাত পদ্ধতিতে আকামা ট্রান্সফারের কথা বলা হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে তা শুধু কাগজপত্রেই শোভা পাচ্ছে। বাংলাদেশিদের আকামা ট্রান্সফার বাস্তবে আদৌ হবে কি না তা নিয়ে প্রবাসীদের মনে যথেষ্ট সংশয়ের জন্ম নিয়েছে।

যেসব বেকার সৌদি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা বের করে ফ্রি ভিসা নামে বিক্রি করছিলো সেসব সৌদি নাগরিকদের অনেকেরই এখন সরকারি চাকরি হয়েছে। এখানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শর্ত হলো- তাদের ব্যক্তিগত কোনো আমেল (শ্রমিক সরবরাহ) প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবেনা এমনকি ব্যক্তিগত কোনো আমেল (শ্রমিক) থাকতে পারবেনা। এ ধরনের সৌদিরা তাদের চাকরি পাকাপোক্ত করার জন্য নিজেদের স্পন্সরশিপে আসা সব শ্রমিককে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার জন্য দিনক্ষণ বেঁধে দিচ্ছে। অন্যথায় খুরোজ (ফাইনাল এক্সিট বা দেশে ফেরত) এ পাঠিয়ে দেয়ার কথা জানিয়ে দিচ্ছে। এরই মাঝে অনেককে হুরুফ (আকামা নবায়নে নিষেধাজ্ঞা) লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলানিউজকে এমনই কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিযেছেন তাদের মনোকষ্ট আর হতাশার কথা। তারা অপেক্ষা করছেন চাকরি জীবনের করুণ পরিণতির জন্য। দেশে গিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকেরই রাতের ঘুম চলে গেছে।
লক্ষ্ণীপুরের আব্দুল মতিনের ছেলে লোকমান। আজ থেকে চার বছর আগে কথিত ফ্রি ভিসায় সৌদি আরব আসেন। ভিসায় তার পেশা ছিলো অটোমেকানিক।

এখানে আসার পর থেকেই বাইরে কাজ শুরু করে আর বছর শেষে আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে দেয় ৭০০০হাজার রিয়াল। লোকমান বাংলানিউজকে বলেন, ভালোই চলছিলো। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে ফোন করে কফিল আমাকে তার সাথে দেখা করতে বলে। দেখা করতে গেলে আমাকে বলে, আমার এখন সরকারি চাকরি হয়েছে। তাই এখন থেকে আমার কোনো আমেল থাকতে পারেবে না। তাই তোমাদেরকে চলে যেতে হবে।


কফিলের কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরার মত অবস্থা। তাকে বুঝিয়ে বললাম, আমার আকামা শেষ হতে এখনো ১৮মাস বাকি। এই মেয়াদ শেষ হলে আমি  নিজ থেকেই একেবারে চলে যাবো। সে আমার  কথায় রাজি হলো না। আমি তার কাছে ১৫ দিনের সময় চাইলাম তাতেও সে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত আমাকে এক্সিট (দেশ ছেড়ে যাওয়‍ার ছাড়পত্র) লাগিয়ে আমার হাতে পাসপোর্ট ধরিয়ে দিলো। এখন আর আমার দেশে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

আরেকজন লক্ষ্ণীপুরের রায়পুরের আব্দুর রহমানে ছেলে সাইফুল। তিনি সৌদি আরব আসেন ২০০৭ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখ। সাইফুল বাংলানিউজকে বলেন, আমার এখনো ১বছরের আকামা আছে। কফিলের সরকারি চাকরি হওয়াতে সে আমাকে দেশে পাঠিয়ে দিবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। অনেক কান্নাকাটি করে তানাজ্জুল (ট্রান্সফার) হওয়ার জন্য ১মাসের সময় চাইলে সে আমাকে ১৫দিনের সময় দিয়েছে। এর মধ্যে তানাজ্জুল না হতে পারলে একেবারে দেশে চলে যেতে হবে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, তানাজ্জুলের কোনো ব্যবস্থা করতে পারি নাই!‍

আশ্চর্যের ব্যপার হলো যারা ফ্রি ভিসায় এসে এখানে কাজ করতো এখন তাদের কফিল তাদেরকে খবর দিয়ে বাসায় নিয়ে গিয়ে একসাথে ৪/৫ বছরের বেতন ভাতা পেয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর এবং টিপসই নিচ্ছেন। যাতে করে ওই শ্রমিকরা লেবার কোর্টে (শ্রম আদালতে) না যেতে পারে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে রিয়াদে বাংলাদেশ দুতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মোহাম্মদ আইয়ুব আলী টেলিফোনে বাংলানিউজকে জানান, এই সমস্যাগুলো আমাদের নলেজে আছে এবং সেগুলো সমাধানের জন্য আমাদের লিগ্যাল উইং কাজ করছে । যারা এই সমস্যার সম্মুখিনে হয়েছেন তাদেরকে হতাশ ন হয়ে দুতাবাসে লিগ্যাল উইং এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এই দুতাবাস কর্মকর্তা ।

এই গ্যাঁরাকলে পড়া এমন অনেক লোকমান আর সাইফুল আছেন যারা একই সমস্যার কারণে খালি হাতে দেশে ফেরার প্রহর গুণছেন। দেশে গিয়ে বাড়াবেন বেকারত্বের বোঝা। নিজের পরিবার এবং দেশ-- উভয়ের জন্যই অনাকাঙ্ক্ষিত এই বোঝার বিষয়ে কেউ কি ভাবছেন? সরকার বা বিরোধীদলের কেউ এ নিয়ে কি চিন্তিত?

এ প্রশ্ন এখন সৌদি প্রবাসী সাধারণ বাংলাদেশিদের সবার। তবে উত্তর কে দেবে জানা নেই তাদের!

বাংলাদেশ সময় : ২২২৯ ঘণ্টা, ১৬ মে, ২০১২
সম্পাদনা : আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর
ahsan@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান