 |
নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাট উভয় শিবিরই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটাচ্ছে। উভয় দলেরই প্রধান লক্ষ্য আমেরিকার বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণির সমর্থন নিশ্চিত করা। গত নির্বাচনে তাদের দেওয়া ভোটে ভর দিয়েই মূলতঃ নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
পক্ষান্তরে গত নির্বাচনে হোঁচট খেয়ে রিপাবলিকান শিবির বুঝে গেছে, তাদের অভিজাতপন্থি রক্ষণশীলতার দিন গত হয়েছে। আমেরিকার ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারক এখন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়। তারাই আসলে ঠিক করবে, পরবর্তী চার বছরের জন্য কে হবেন হোয়াইট হাউস তথা মার্কিনীদের ভাগ্য বিধাতা।
আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী মিট রমনির শিবিরের বাঘা বাঘা বিশেষজ্ঞরাও এ সত্য উপলব্ধি করেছেন ভালোভাবেই। তাই এবারের নির্বাচনে রমনির স্লোগান ‘শক্তিশালী মধ্যবিত্ত সমাজ গঠন’।
নিজের কর্মসূচির স্বপক্ষে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নির্বাচিত হলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সর্বশেষ জনপ্রিয়তা জরিপে রমনি ওবামার থেকে পিছিয়ে পড়লেও আমেরিকার রাজনীতির ওপর খোঁজ খবর রাখেন এমন সচেতন পাঠকরা ঠিকই জানেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই বারাক ওবামাকে বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন মিট রমনি।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দায় ইউরো জোনের মত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রও কম বেশি আক্রান্ত। ২০০৮ সালে বারাক ওবামা যখন হোয়াইট হাইজের দায়িত্ব নেন তখন মন্দা ও পরপর দু’টি যুদ্ধের খরচ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ছিলো বিপর্যস্ত প্রায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা বারাক ওবামার যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও সেই অবস্থা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারেনি আমেরিকা। দেশটির বেকারত্বের হার এখনও ৮ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আমেরিকার বর্তমান বাস্তবতায় রমনির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়নযোগ্য এবং এর অধিকাংশই পরবর্তীতে রাজনৈতিক ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয় কিনা, তা নিয়ে বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের সর্বশেষ সংখ্যায় মিট রমনিকে প্রচ্ছদ করে আলোচনা করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে প্রকাশিত হওয়া এই সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভোটের রাজনীতিতে সবচেয়ে জ্বলন্ত ইস্যুগুলোর ব্যাপারে রমনির প্রতিশ্রুতি এবং এগুলো বাস্তবায়নের পথে রমনির বাধাগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
উল্লেখিত প্রতিবেদনের চুম্বক অংশগুলো সংক্ষেপিত করে বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। এতে চলতি ভোটের মৌসুমে আমেরিকার রাজনৈতিক গতিপথ সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা মিলবে আশা করা যায়।
বাজেট
প্রথমে আসা যাক বাজেট প্রসঙ্গে। বলা যায়, বাজেটই এ মুহুর্তে আমেরিকার ভোটের রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত উনুন। বাজেটের ওপর রমনি অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আয়কর গড়ে ২০ শতাংশ কমিয়ে আনার কথাও বলা আছে তার প্রতিশ্রুতিতে।
এর মাধ্যমে তিনি ‘টপ ব্রাকেট’ নামে অভিহিত আয়করের সর্বোচ্চ হার বর্তমানের ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৮ শতাংশে আনার পরিকল্পনা করছেন। এই টপ ব্রাকেট ভুক্ত করদাতারাই আমেরিকার ধনিক ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি হিসেবে পরিচিত যাদের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের বেশি।
পাশাপাশি তিনি ‘আর্নড ইন্টারেস্ট’ নামে অভিহিত কোম্পানির লভ্যাংশ, ‘ক্যাপিটাল গেইন’ নামে অভিহিত অস্থাবর সম্পদ, যেমন, মূল্যবান ধাতু, বন্ড ইত্যাদি এবং শেয়ারের ডিভিডেন্ড থেকে যাদের আয় দুই লাখ ডলারের বেশি, তাদের আয়কর পূর্বের হারেই বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে এর কম উপার্জকারীদের রেয়াত দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ‘অলটারনেটিভ মিনিমাম ট্যাক্স’ এবং ‘এসটেট ট্যাক্স’ নামে অভিহিত আয়করও প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যাচাই করে দেখা গেছে রমনির পরিকল্পনায় বেশকিছু কর কমলেও এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক সেবা ও কল্যাণমূলক অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ কমাতে হবে তাকে। কিন্তু কোন কোন কর্মসূচির বরাদ্দ কমিয়ে তিনি আয়কর হ্রাসের সামঞ্জস্য করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই বলেননি তিনি। স্বাভাবিকভাবেই যদি তিনি তার প্রতিশ্রুতি পালন করতে চান এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ধনিক শ্রেণি। তবে এর ফলে নিম্ন এবং মধ্য আয় করা পরিবারগুলোর বোঝা অনেকখানি বেড়ে যাবে। কারণ, আয়কর কমলে সরকারের আয় কমবে, আর আয় কমে গেলে সরকারকে অবশ্যই কল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ কমাতে হবে।
এখন অপেক্ষা করে দেখা যেতে পারে রমনির এ প্রতিশ্রুতি আমেরিকার অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শ্রেণির লোক কিভাবে নেয়।
অভিবাসন
দলীয় মনোনয়ন লাভের লড়াইয়ে কট্টর রক্ষণশীলদের মন ভজাতে প্রাথমিকভাবে অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিলেও প্রাইমারি শেষ হওয়ার পরপরই অবশ্য সুর নরম করা শুরু করেছেন রমনি।
কাগজপত্রহীনভাবে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারগুলোর ব্যাপারে ইতেমধ্যেই নিজের ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এছাড়া শর্তসাপেক্ষে বৈধ অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। যদিও মেক্সিকো থেকে অবৈধ অভিবাসীর ঢল সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর পুরো সীমান্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বেড়া নির্মাণের কথা বলেছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসন ইস্যুতেই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন রমনি। অভিবাসীদের প্রতি তার নরম অবস্থান রক্ষণশীল রিপাবলিকান ভোটারদের ব্যাপকভাবে ক্রুদ্ধ করতে পারে। তারা হয়তো রমনির ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে ওবামাকে ভোট দেবেন না, কিন্তু যদি তারা ভোট কেন্দ্রেই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে বিপদে পড়বেন রমনি। কারণ এরাই মূলতঃ রিপাবলিকান ভোট ব্যাংক।
হিস্পানিক বলে অভিহিত যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা বিপুল স্প্যানিশভাষী আমেরিকানরা এমনিতেই গত নির্বাচনে ব্যাপক মাত্রায় ওবামার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলো, তার ওপর রক্ষণশীল পল রায়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন লাভ রমনির কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
পল রায়ান মার্কিন কংগ্রেসে অভিবাসীদের বৈধ করার লক্ষে উত্থাপিত ঐতিহাসিক বিল ড্রিম অ্যাক্টের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার বিরুদ্ধে তার আপত্তি প্রবল। এ পরিস্থিতিতে রমনি নির্বাচিত হলে অভিবাসীদের জন্য কতখানি কী করতে পারবেন তা নিয়ে অনেক ভোটারই সংশয়ে।
সামাজিক সুবিধা
আমেরিকার ভোটের বাজারে আরেকটি জ্বলন্ত ইস্যু সামাজিক সুবিধা। পর্যায়ক্রমে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা সুবিধা পাওয়ার আওতাযোগ্য বয়সসীমা বাড়াতে চান মিট রমনি। তবে তিনি কিভাবে তা বাস্তবায়ন করবেন এর কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেননি। একই সঙ্গে তিনি ফেডারেল সরকার পরিচালিত চিকিৎসা সুবিধা কার্যক্রম অঙ্গরাজ্যগুলোর ঘাড়ে চাপানোর কথা উল্লেখ করেছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী যাদের বয়স ৫৫ বা তার থেকে কম তাদের জন্য বর্তমানের চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির বদলে ‘প্রিমিয়াম সাপোর্ট’ নামে অভিহিত আর্থিক সুবিধা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রমনি। এই ক্যাটাগরিভুক্ত নাগরিকরা রমনির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চিকিৎসা বীমার সুবিধা কেনার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ সহায়তা পাবেন।
তবে রমনির রানিং মেট পল রায়ান ওবামা প্রণীত ঐতিহাসিক স্বাস্থ্যসেবা বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। এই বিলকে ‘ওবামা কেয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভেতর ও বাইরে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। ওবামার কর্মসূচির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘ফেডারেল হেলথ ইন্সুরেন্স’ কর্মসূচি সংস্কারের জন্য তার দেওয়া রোডম্যাপ ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রমনি যদিও পল রায়ানের কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন তবে এর বিতকির্ত দিকগুলোর ব্যাপারে তার নীরবতা ভোটারদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
কর্মসংস্থান
যদি প্রশ্ন করা হয়, এ মুহূর্তে আমেরিকার আসল আলোচিত ইস্যু কোনটি, তবে বেকারত্বকেই সবার ওপর স্থান দেবেন অনেকে। এ মুহূর্তে আমেরিকার বেকারত্ব ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তাই বেকারত্ব নিরসনে স্পষ্ট ও পরিষ্কার কর্মপরিকল্পনা আগামী নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জ্বালানি খাত উন্নয়নে পূর্বের কড়া নিয়মকানুন শিথিল করার পক্ষে রমনি। এছাড়া নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি ও বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষক ইউনিয়নগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি বারাক ওবামার ওয়ালস্ট্রিট সংস্কারের কর্মসূচি বাতিল করারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর কর কমিয়ে স্বকর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানের ৮ শতাংশ বেকারত্ব পরিস্থিতির মধ্যে রমনির এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু তার প্রতিশ্রুত ১ কোটি ২০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি করতে হলে সামনের দিনগুলোতে আমেরিকাকে গত ৬০ বছরের গড় প্রবৃদ্ধির থেকেও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকটাই কঠিন।
পররাষ্ট্রনীতি
পররাষ্ট্রনীতিতে রমনির প্রতিশ্রুতিগুলো যেন তার রিপাবলিকান পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের অনুরূপ। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইসরায়েলের পক্ষে অকুণ্ঠ ও নিঃশর্ত সমর্থন দান এবং বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি কঠোর অবস্থান—বলা যায় নতুন তেমন কিছুই নেই এতে। এছাড়া পররাষ্ট্র নীতিতে রমনির অনভিজ্ঞতা ও অপরিপক্কতা নিয়ে এমনিতেই কথা উঠছে বিভিন্ন মহলে।
রমনি মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি শত্রু ও বৈরী রাষ্ট্রগুলোসহ অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন।
সমালোকদের মতে, তিনি মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরামর্শকদের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। ‘নিও কন’ ধারার ‘ওয়ার মঙ্গার’ হিসেবে পরিচিতি এসব পরামর্শক যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতি যত না চিন্তাশীল তার থেকে বেশি অনুগত বড় বড় করপোরেশন এবং অস্ত্র ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের প্রতি—এমন ধারণা বিরাজমান রয়েছে।
রমনি ইতিমধ্যেই হুংকার দিয়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার পক্ষে। একই সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য লড়াইয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথাও বলেছেন তিনি। পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে যে কোনো ধরণের সমঝোতা ও আলোচনার তিনি ঘোর বিরোধী।
বিশ্লেষকদের মতে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে রমনির অবস্থান বারাক ওবামার ঠিক বিপরীত। ঐতিহ্যগতভাবে একজন রিপাবলিকান প্রার্থীর জন্য এটাই স্বাভাবিক অবস্থান হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওবামার দেওয়া পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে কোনো কিছু করতে যাওয়া রমনির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং গত কয়েক বছরে ওবামার পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতার বিপরীতে রমনি উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পনা দাঁড় করাতে পারেননি।
আর এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও তা ভালো কিছু বয়ে আনবে না-- সাধারণ ভোটাররাও এটা ভালই বোঝেন।
পরিশেষে বলা যেতে পারে, নির্বাচনে জিততে হলে রমনিকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে ভোটারদের সামনে আরও স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করতে হবে। তবে একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল অংশটির মন যোগানোর পাশাপাশি বিশাল মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের মন জয় করাটাই এ মুহূর্তে রমনির জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ সময়: ০৬৫৮ ঘণ্টা, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটরahsan.akraza@gmail.com