 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বাধায় বৃহস্পতিবার তামাকবিরোধী র্যালি করতে পারেনি ‘আধূনিক’ একটি সংগঠন। এসময় ছাত্রলীগ ও আধূনিকের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পুলিশ দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
ছাত্রলীগ নেতারা বলেছেন, আধূনিকের ব্যানারে শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করায় এবং ছাত্র সংসদকে আগে থেকে অবহিত না করায় বাধা দেওয়া হয়েছে।
তবে আধূনিকের পক্ষ থেকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ এবং শিবির একই সময়ে তাদের কর্মসূচি পালন করতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা দু’পক্ষকে বলেছি, একমত হয়ে পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে।’
আধুনিক-শিবিরের সংগঠন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এস আই জহির বলেন, ‘শুনেছি তাদের সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততা আছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকার ১১টায় ক্যাম্পাসের প্রিন্সিপ্যাল লবির সামনে আধূনিকের ব্যানারে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী র্যালি বের করার জন্য তামাকবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হয়।
খবর পেয়ে কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মফিজুল ইসলাম জুম্মা, সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমাসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা সেখানে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা র্যালি করতে পারবেন না। আপনাদের মতো আমরাও তামাকমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। সেই সঙ্গে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও চাই। ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকেও তামাকবিরোধী কর্মসূচি আছে। আপনারা চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।’
এসময় আধূনিকের পক্ষ থেকে আসা অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাশে ফিরে যান। সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কথা কাটাকাটি শুরু হলে পুলিশ এসে দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে আধূনিকের সাধারণ সম্পাদক আবু শোয়েব সবুজ বাংলানিউজকে বলেন, ‘তামাকবিরোধী দিবসে আমরা প্রতিবছর র্যালি বের করে থাকি। এ বছরও আমরা র্যালি করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগ ও ছাত্র সংসদের নেতারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলে আমাদের কর্মসূচীতে বাধা দিয়েছেন।’
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মফিজুল ইসলাম জুম্মা বাংলানিউজকে বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র সংসদকে অবহিত করা ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। আধূনিক আমাদের কর্মসূচির কথা জানায়নি। সেজন্য তাদের কর্মসূচি পালন না করার অনুরোধ করেছি।’
আধূনিকের চমেক শাখার সভাপতি ডা. শেখ শফিউল হাসানসহ কয়েকজন নেতা শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ করেছেন জুম্মা।
এ বিষয়ে আধূনিকের সাধারণ সম্পাদক আবু শোয়েব সবুজ বাংলানিউজকে বলেন, ‘উনি ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখনো সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। আর আমাদের সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম জাহাঙ্গীর ব্যস্ততার জন্য কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৭ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর