 |
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান): পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় কালো পোশাকধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কালো পোশাক ও মুখোশধারী সশস্ত্র লোকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, এ গ্রুপটির খোজেঁ শুক্রবার (১২ অক্টোবর) রাতে ৫ ঘণ্টাব্যাপী নিষ্ফল অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী।
সেনা, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ফুলতলীর পার্শ্ববর্তী ডাক্তারকাটা কড়ই বাগান এলাকায় এ অভিযান চালায়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সশস্ত্র কালো পোশাক ও মুখোশধারী একটি বাহিনী রাতের অন্ধকারে মায়ানমার ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা যাওয়ায় স্থানীয় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ফুলতলী এলাকার জনৈক নুরুল হক বাড়ি ফেরার পথে সশস্ত্র এ গ্রুপটিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ডাক্তারকাটা-কড়ই বাগান পাহাড়ি এলাকায় দেখতে পান।
এসময় ওই গ্রুপটির সদস্যরা নিজেদের আরএসও-এর সদস্য দাবি করে এবং তাদের দেখে ফেলার বিষয়টি গোপন রাখতে বলে।
পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার রাত ১১টা থেকে প্রায় ৪টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টা যৌথবাহিনী সীমান্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে রামু গ্যারিসনের সেনা, র্যাব-৭-এর কক্সবাজার অস্থায়ী ক্যাম্পের সদস্য, নাইক্ষ্যংছড়ি ১৫ বিজিবি ও রামু থানা পুলিশ অংশ নেয়।
এদিকে, সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা, আশারতলী, লেমুছড়ির প্রায় এলাকায় গভীর বনাঞ্চল রয়েছে।
এছাড়াও মায়ানমারের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ১২০ কিলোমিটারের মধ্যের ৫৫ থেকে ৬৫ সীমান্ত পিলার পর্যন্ত অরক্ষিত রয়েছে। ফলে, অপরাধী চক্র এ সীমান্তে নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চাকঢালা এলাকার বাসিন্দা আজিজ বাংলানিউজকে জানান, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কালো পোশাকধারী একদল সশস্ত্র বাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় দেখা গেছে।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি কালো পোশাকধারীদের দেখে বিভিন্ন স্থানে বলাবলি করলে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরই সূত্র ধরে যৌথবাহিনী বাহিনী রাতে এ চিরুনি অভিযান চালায়।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ১৫ বিজিবির আঞ্চলিক কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মাহাবুবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, কালো পোশাকধারী লোকজন দেখার বিষয়টি শুনে শুক্রবার সেনা, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ ডাক্তারকাটা-ফুলতলী এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়েছে।
তবে বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকিসহ ওই এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এএসএম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলানিউজকে জানান, তিনিও বিষয়টি লোকজনের কাছ থেকে শুনেছেন এবং তা বিজিবি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বান্দরবানের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে মায়ানমারের (বার্মা) স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী গ্রুপ অস্ত্র পাচারসহ ‘সশস্ত্র বিপ্লব’-এর জন্য পাহাড়ি এলাকা বেছে নেয়।
তারই অংশ হিসেবে সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
কিন্তু বিগত সরকারের পলিসি পাল্টানোর কারণে ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর অভিযানে শুধুমাত্র নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেল, এম-১৬, জি-৩, গ্রেনেড, বিস্ফোরকসহ কয়েক লাখ গুলি উদ্ধার করে। এর পর তাদের তৎপরতা প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি মায়ানমারে জাতিগত সংঘাতের পর আবার ওই সব সন্ত্রাসী গ্রুপ নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১২
প্রতিবেদন: আবুল বাশার নয়ন, সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর