 |
| ছবি: জুবায়ের রাকেশ |
ঢাকা: তিন মাস আগে নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন রুনির মা নূরুন নাহার মির্জা ও তাদের সহকর্মীরা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মাছরাঙা টেলিভিশনের সামনের রাস্তায় আয়োজিত মানবন্ধনে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের আবারও বিচার দাবি করলেন তারা।
মানববন্ধনে প্রশ্ন রাখেন, ‘সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পরও খুনিরা আজও ধরা পড়লো না কেন?’
হত্যার বিচার পাওয়ার আশা-নিরাশার দোলাচলে থাকা রুনির মা আরও বলেন, ‘ঘটনার দীর্ঘদিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তারপরও আবার আশায় বুক বাঁধি। কারণ এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরে কবর থেকে লাশ উঠিয়ে ভিসেরা পরীক্ষা করার বিষয়ে নূরুন নাহার বলেন, ‘অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু তারপরও ভিসেরা পরীক্ষা করতে দিয়েছি। না করতে দিলে বলা হতো টেস্ট না করতে পারাতে তদন্ত ব্যাহত হয়েছে। এত কিছুর পরও তদন্তের অগ্রগতী দৃশ্যমান না।’
মাছরাঙা টেলিভিশন আয়োজিত মানবন্ধনে অংশ নেন টিভি চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম মোনায়েম, প্রধান বার্তা সম্পাদক রেজোয়ান হক রাজা, বার্তা সম্পাদক শাহ আলমগীর, চ্যানেল ৭১-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবুসহ মাছরাঙা টেলিভিশনের সংবাদকর্মীবৃন্দ।
এসময় ফাহিম মোনায়েম বলেন, ‘দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও তদন্তে অগ্রগতি দেখছি না। তবে আশা করছি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে। খুনিদের বিচারের মুখোমুখি হবে।’
তদন্ত প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ মন্তব্য করে শাহ আলমগীর বলেন, ‘তদন্ত প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ মনে হচ্ছে না। আর তাই তদন্তের ভার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের জনগণের অর্থে গোয়েন্দা সংস্থা চলে, অথচ তাদের মাধ্যমে যদি কাজ না হয় তাহলে এদের দরকার কী?’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংস্থাটি ব্যর্থ হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ব্যর্থতা পুরে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার।’
এছাড়া ভিসেরা টেস্টের জন্য মৃত্যুর ৭২ দিন পর কবর থেকে লাশ উঠিয়ে স্বজনদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাহ আলমগীর।
মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘যদি সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে না চায় তাহলে বুঝতে হবে গোয়েন্দা সংস্থার দুর্বলতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। এ বিষয়ে সরকারের ভাবা দরকার। কারণ লাশের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।’
একই সঙ্গে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে একটি তদন্ত টিম গঠন হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত দেন তিনি। এর মাধ্যমে এ ঘটনার হোতাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে জানান।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন।1
বাংলাদেশ সময়: ১৭০৭ ঘন্টা, মে ১২, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর