 |
মুসলমান সাইফ আলীকে বিয়ে করার পরও কারিনা কাপুর তার পূর্ব ধর্ম পরিচয়েই স্থির রয়েছেন। একথা জানিয়েছেন কারিনার শাশুরি বাঙালি কন্যা শর্মিলা ঠাকুর। এ খবর দিয়েছে হিন্দি পত্রিকা নবভারতটাইম্স.কম।
প্রসঙ্গত, ভিন্ন দুই ধর্মের পাত্র-পাত্রী সাইফ-কারিনার বিয়ের পর থেকেই একথা জোরেশোরে বলা হতে থাকে যে, সনাতন ধর্মবলম্বী কারিনা তার বর সাইফের ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে গেছেন। তবে বিয়ের ক’দিন বাদেই বেবো অর্থা কারিনাকে সিঁদুর পরা অবস্থায় প্রকাশ্যে দেখে কিছুটা ধাক্কা খান ‘কারিনা মুসলমান হয়ে গেছেন’ ধারণা প্রচারকারীরা।
প্রয়াত পতৌদির নবাব মনসুর আলী খানের বিধবা হিন্দি ফিল্মের এক সময়ের হার্টথ্রব নায়িকা শর্মিলা ঠাকুর জানিয়েছেন, কারিনার ধর্ম ইসলামে পরিবর্তিত হয়নি। তবে তিনি পতৌদির (অর্থাৎ সাঈফ আলী খানের) বেগম অবশ্যই। সাইফ যেহেতু উত্তরাধিকার সূত্রে নবাব তাই তার স্ত্রী-ও বেগম হিসেবে অভিহিত হবেন।
শর্মিলা আরও জানান, সাইফ ‘নবাব’ সম্বোধন পছন্দ করেন না। তবে আমি তাকে বলেছি ঐতিহ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে তাকে নিজের করে নিতে। আমার এ কথার জবাবে সাইফ জিজ্ঞেস করে, তাহলে লোকজন জিজ্ঞেস করবে, কোথাকার নবাব? কোন রাজ্যের নবাব?
শর্মিলা বলেন, আমি সাইফের ভাবনা-চিন্তা অনুধাবন করতে পারি। কিন্তু বিষয় হচ্ছে আপনি যদি পতৌদি বংশের সন্তান হন তাহলে মানুষ আপনাকে ‘নবাব’ বলবেই। আপনি যেসব জিনিসের সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন, সেসবকে অস্বীকার কীভাবে করবেন? কেউ তার অতীতকে অস্বীকার করতে পারে না।
শর্মিলা বলেন, সাইফ মনে করে, নবাব পদবী’টা তার পিতাকে মানাতো। বাবার স্থান পূরণ করা কঠিন। তবে আমার মনে হয় এসব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, সাইফ-কারিনার বিয়েকে বেশ কয়েকজন মৌলভী অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন। তাদের মত হচ্ছে, সাইফ যেহেতু মুসলমান তাই তার স্ত্রীকেও মুসলমান হতে হবে। কিন্তু পতৌদি পরিবার এখানে কোনো সমস্যা দেখেনি। তাই নিজেদের ইচ্ছা মাফিক সাইফ-কারিনার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
প্রসঙ্গত, কারিনা কাপুর বিয়ের পর বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তাকে কারিনা কাপুর খান নামে ডাকার জন্য।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৫ ঘণ্টা, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১২
একে