সাতক্ষীরা: রাসমেলাকে সামনে রেখে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে হরিণ শিকারের মহোৎসব। এক শ্রেণীর অসাধু হরিণ শিকারী চক্র এ রাস মেলাকে সামনে রেখে মেতে ওঠে হরিণ শিকারের নেশায়।
এরই মধ্যে বন বিভাগের তৎপরতায় গত এক সপ্তাহে ১৬৪ জন হরিণ শিকারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হরিণ শিকারের ফাঁদ, বেশ কিছু হরিণের মাংশ, হরিণ শিকারের জন্য প্রয়োজনীয় দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ ৮১ জন হরিণ শিকারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার, বেশ কিছু জ্বালানি সুন্দরী কাঠ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে দু’দফায় আরও ৮৩ জনকে আটক করা হয়। রোববার তাদের খুলনা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের নলীয়ান স্টেশনের দাকোপ উপজেলার পাটকোস্টা পাটাঘাটা খাল থেকে তাদের আটক করা হয়।
সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল হক হাওলাদার জানান, রাস মেলায় অংশ নেওয়ার নামে ৪টি ট্রলারযোগে ৮১ জন হরিণ শিকারী অবৈধভাবে সুন্দরবনে যান।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুন্দরবনের পাটকোস্টা টহল ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে বন বিভাগের সদস্যরা ৪টি ট্রলার আটক করেন।
এ সময় ৪টি ট্রলার থেকে আটক করা হয় ৮১ জন হরিণ শিকারীকে। পরে তাদের ট্রলার তল্লাশি করে বেশ কিছু হরিণের মাংশ, কয়েকটি দা, কুড়াল, ৮০ ফুট লম্বা ৪টি হরিণ ধরার ফাঁদ, জ্বালানি সুন্দরী কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
রোববার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর ৪৩ জন ও ১৭ নভেম্বর ৪০ জন হরিণ শিকারীকে পৃথক ৪টি ট্রলারসহ একই এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে জানান নলিয়ান স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল হক হাওলাদার।
তাদের কাছ থেকে রান্না করা হরিণের মাংশ, হরিন শিকারের কয়েকটি ফাঁদও উদ্ধার করা হয়।
তারা সবাই সুন্দরবনের দুবলার চরে সোমবার থেকে অনুষ্ঠিত রাস মেলায় যোগ দিতে অবৈধ পথে সুন্দরবনে ঢুকেছিল।
বাংলাদেশ সময়: ২২০২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর