 |
| ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ফরিদপুর: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামে ১৪ বছর বয়সী এক অন্তসত্বা কিশোরীকে কয়েক মাস ধরে শিকলে বেঁধে রেখেছেন তার পরিবারের লোকজন।
মারুফার বাড়ি উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামে। সে ৬ মাসের অন্তসত্বা।
সরেজমিনে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬ মাস আগে উপজেলার বিনোকদিয়া বাজারের ৫ দোকানি তাকে অপহরণ করে পাটক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে সে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে। এ খবর জানার পর থেকে তার বাবা-মা তাকে বাড়িতে এনে সব সময় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। রাতে তাকে রান্না ঘরে ঘুমাতে দেওয়া হয় এবং খেতে দেওয়া হলেও মাঝে মধ্যে মারধর করা হয়।
সে আরও জানায়, সে ধর্ষকদের দেখলে চিনতে পারবে। তার গর্ভে ৬ মাসের বাচ্চা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই কিশোরীর বাবা মেয়ে অন্তসত্বার হওয়ার কথা স্বীকার করে এ অবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার মেয়ে বোকা প্রকৃতির। যে যা বলে তাই করে। এক রকমের মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই যেখানে সেখানে চলে গিয়ে আবারও কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে সে আশঙ্কায় তাকে বেঁধে রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, মেয়েটি সহজ-সরল, সে সুন্দর কথা বলতে পারে তাকে এভাবে শিকলে বেঁধে রাখা অমানবিক! এভাবে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসার দরকার।
এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, ৫ জুলাই শুক্রবার স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। ওইদিন বিকেলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার বাবা মা জানিয়েছে ছোট বেলা থেকেই সে ভারসাম্যহীন। যখন তখন সেখানে সেখানে চলে যায়। তাই তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, ০৬ জুলাই, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর