 |
পটুয়াখালী: বাজেট নিয়ে পটুয়াখালীর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটাকে গণমুখী এবং দেশের উন্নয়নের বাজেট বলে আখ্যায়িত করা হলেও বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ বাজেটকে গণবিরোধী, উচ্চাভিলাষী এবং গতানুগতিক বলে উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ রব মিয়া বাংলানিউজকে জানান, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট একটি পরিকল্পিত গণবিরোধী, উচ্চভিলাষী এবং নির্বাচনমুখী।
তিনি বলেন, “এ বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এতে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে।” এছাড়া এ বাজেটে কোনো ভাল দিকনির্দেশনা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটভারী করার পদ্ধতি সুগম করেছে এ বাজেটে।”
এদিকে, বাজেট প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক খান মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, একটি গণমুখী বাজেট পেশ করছে অর্থমন্ত্রী। এ বাজেটে দেশের উন্নয়ন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া এমন একটি বাজেট ঘোষণা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ বাজেট সম্পর্কে বিএনপি নেতা যে মন্তব্য করেছেন তা গতানুগতিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বাজেট সম্পর্কে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকদার বাংলানিউজকে জানান, ঘোষিত বাজেটে আর্থসামাজিক ভিত্তিক উন্নয়নের কথা থাকলেও তা হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
তিনি জানান, উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হলেও এ বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ বাজেটে শিল্পায়নে কোনো প্রভাব পড়বে না। ব্যাংকে সুদের হার বাড়াসহ তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বাজেট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোতালেব মোল্লা বাংলানিউজকে জানান, ঘোষিত বাজেটে দেশবাসী হতাশ। এতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না।
তিনি জানান, বিশেষ করে কৃষক এবং ক্ষেতমজুরের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় কৃষকদের এতে কোনো লাভ হবে না।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালুর দাবি জানালেও তা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তিনি জানান, কৃষি খাতে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ খুবই নগন্য। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানো তো দূরে থাক তাদের কান্নাও থামানো যাবে না।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালীর জন্য আলাদা বাজেটের দাবি জানিয়ে আসলেও এবারও তা হয়নি। এ দুর্যোগপ্রবণ এবং অধিকতর চরাঞ্চল বেষ্টিত জনগোষ্টির জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দেয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া শিক্ষা খাতে ৮ ভাগ বরাদ্দের দাবি ছিল তাদের। অথচ গতানুগতিক ২ ভাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে তেমন কোনো সুফল আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী চেম্বারের সভাপতি মো. সফিকুর রহমান চান জানান, ঘোষিত বাজেটে শিল্পায়নে তেমন কোনো উপকারে আসবে না। এছাড়া পর্যটন শিল্পে আলাদা বরাদ্দ থাকলে বেশি ভাল হতো বলে জানান তিনি।
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক জাফর খান বাংলানিউজকে জানান, এটি একটি উচ্চভিলাষী বাজেট- যা গরিবদের কোনো উপকারে আসবে না।
এদিকে, বাজেট কী তা না জানলেও রিকশাচালক ওহাবের মতে, এতে চাল-ডালের দাম বাড়বে না কমবে সেই চিন্তাই তার বেশি। শুধু ওহাবেরই নয় একই চিন্তা জেলার সব খেটে খাওয়া মানুষের।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১২
সম্পাদনা: নাজিম উদ দৌলা সাদি, নিউজরুম এডিটর