 |
খুলনা: পুঁজিবাজারে ১৯ মাস মন্দা বিরাজ করায় চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন খুলনার ১ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারী। কোনোভাবেই তারা দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারছেন না। ফলে, এবার ঈদের কেনাকাটায় সরব উপস্থিতি নেই ওই সব বিনিয়োগকারীদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পনগরী খুলনায় ডিএসই ও সিএসইর অধীনে ২০টি ব্রোকারেজ হাউসে বাজার ভালো থাকা অবস্থায় ২ লাখের বেশি বিনিয়োগকারী ছিল। এদের মধ্যে ছিলেন চিংড়ি ব্যবসায়ী, পাট ব্যবসায়ী, গৃহিনী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এমনকি বেসরকারি চাকরিজীবীরাও। তারা প্রতিদিনই হাউসে এসে লেনদেন করতেন। ফলে, তিল পরিমাণ জায়গা থাকতো না ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে। এসব বিনিয়োগকারী প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা লেনদেন করতেন।
২০০৯ সালের ভয়াবহ দরপতনের পর মাত্র ১৯ মাসের ব্যবধানে সেখানে বর্তমানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ও লেনদেন অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের বসার জায়গা থাকতো না, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা।
স্থানীয় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বাংলানিউজকে জানান, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এসব ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী অনেকেই এখন বেকার দিন কাটাচ্ছেন। ফলে, এ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল অনেকের ভাগ্যেই গত ঈদের মতো এ ঈদেও নেই কোনো আনন্দ, কোনো উৎসব।
খুলনার ইনভেস্টর ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ডাকুয়া বাংলানিউজকে জানান, বাজার ধসের কারণে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। সে কারণে এখানকার লক্ষাধিক বিনিয়োগকারীর পক্ষে ঈদের কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এম ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারী মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘পকেট শূন্য থাকায় বাচ্চাদের ঈদ আবদার পূরণ করতে পারছি না। ফলে, মানসিকভাবে ভীষণ যন্ত্রণায় আছি।‘
এনসিসি ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারী মো. লিটন বলেন, ‘ভেবেছিলাম ঈদের আগে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। লাভের টাকা তুলে ঈদের কেনাকাটা করবো। কিন্তু, তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, অধিকাংশ শেয়ারের দাম ক্রয়ের অর্ধেকেরও নিচে।‘
সরেজমিন নগরীর অভিজাত বিপণিবিতান, শপিং কমপ্লেক্স, আড়ং, নিউমার্কেট, জলিল টাওয়ার, মালেক চেম্বার, আক্তার চেম্বার, বড় বাজার, খাজা খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, মাওলানা ভাসানী মার্কেটের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুঁজিবাজার মন্দা থাকায় ঈদে বিক্রি কম। তাদের মতে, পুঁজিবাজারের মন্দার প্রভাব ঈদের বাজারে পড়েছে।
এদিকে, সিনহা ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ এজাজ বাংলানিউজকে জানান, বাজারে
ধারাবাহিক দরপতনের কারণে হাউসের আয়ও কম। সে কারণে তাদের ঈদও অনেকটা আনন্দহীন!
বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর