 |
| ছবি: বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: উচ্চাভিলাসী না হলেও আসন্ন অর্থবছরের (২০১২-১২) প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য মনে করেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। এছাড়া এ বাজেট বিভিন্ন খাত ও ক্ষেত্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মনোভাব ব্যক্ত করেন।
এ সময় বর্তমান ক্ষমতাসীনদের তৈরি করা পরিস্থিতিতে অন্য কোন সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের জন্য দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে তাদের দলীয়করণ প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন চলতি সংসদের এই পার্লামেন্টারিয়ান। একই সঙ্গে আসন্ন অর্থবছরে ব্যাংকিং খাতের জন্য বরাদ্দা কার্যত বিশৃঙ্খলা বাড়াবে বলেও অভিমত তুলে ধরেন তিনি।
এমনকি উন্নয়ন বাজেটের আকার একটা পর্যায়ে গিয়ে এ সরকার কমাতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন এমকে আনোয়ার।
ম্যাব সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ।
প্রস্তাবিত বাজেটে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানোসহ দশ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।
এতে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ প্রত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ প্রমুখ।
মূলত প্রস্তাবিত বাজেটে এখনো সংশোধনীর আনার সুযোগ থাকায় খাত ধরে ধরে বাজেটের বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করেন তারা।
প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমকে আনোয়ার বলেন, ‘আমি মনে করি না যে এটা উচ্চাভিলাসী বাজেট, তবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে।’
‘এ সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে’ দাবি করে আনোয়ার বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের সহযোগিতা এ সরকারের বৈশিষ্ট।’ দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এ সরকার যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের প্রাধান্য বেশি দিচ্ছে। কিন্তু এভাবে কোনক্ষেত্রেই সাফল্য আনা সম্ভব নয়। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, অন্য সরকার এলে তাদের জন্য দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে।’
‘আগামী অর্থবছরে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিতে হবে বলা হলেও বাস্তবে এর পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ বাজেটে ব্যাংকিং খাতের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তাতেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। উন্নয়ন বাজেটের আকার কমিয়ে আনা ছাড়া উপায় থাকবে না।’
ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন এমকে আনোয়ার।
‘প্রস্তাবিত বাজেটে জাতির উন্নয়ন সম্পর্কে কোন দিক নির্দেশনা নেই’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের জন্য নয়, এটি জাতিরও চালিকা শক্তি। কিন্তু ২০২১ সালে কি করা হবে সেটাই বলা হয়েছে বাজেটে। আগামী অর্থবছরে কি হবে তা বলা হয়নি।’
‘এ বাজেট মোটেও বাস্তবায়নযোগ্য নয়, বরং এতে বৈষম্য বাড়বে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সমস্ত অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সমাজে অচলাবস্থা তৈরি হবে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে বাজস্ব প্রাপ্তি ২২ শতাংশ বাড়ানোয় জনগণের প্রকৃত জীবনমান কমে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েও বাস্তবে ৬ শতাংশ অর্জন করাও সম্ভব হবে না।’
মূল বক্তব্যে শাকিল আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেটে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানোসহ দশ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।
তার তোলা অপর সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জনগুরুত্বসম্পন্ন ভর্তুকি অর্থায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বর্ধিত হারে বৈদেশিক অনুদান এবং স্বল্পসুদের বিদেশি ঋণ সংগ্রহ করার পরামর্শ, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ ইত্যাদি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৬ ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১২
এসকেএস/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর