 |
ঢাকা: একটি স্বচ্ছ পুঁজিবাজার নিশ্চিত করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নিজস্ব সার্ভিল্যান্স সফটওয়ার চালু করলেও নজরদারির বাইরেই থেকে যাচ্ছে অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মধ্যে থাকা দেড় লক্ষাধিক গ্রাহকের হিসাব।
এতে অমনিবাস হিসাবের মধ্যে থাকা গ্রাহক ও ব্রোকারেজ হাউজের গ্রাহকের মধ্যে বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মধ্যে থাকা গ্রাহক হিসাব নজরদারির আওতায় আনতে গ্রাহকের হিসাবগুলোকে পৃথক বেনিফিসিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে রূপান্তরের নির্দেশ দেয় এসইসি। এজন্য সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ৩০ ডিসেম্বর।
তবে একদিকে এসইসি যেমন নির্দেশনাটি এখনও কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে পাঠায়নি, তেমনি মার্চেন্ট ব্যাংকও তা বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ।
এ বিষয়ে হাফিজ জানিয়েছেন, ‘‘নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অমনিবাস হিসাবের মধ্যে থাকা গ্রাহকদের হিসাবগুলো পৃথক বিও হিসাবে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না। এটি বাস্তবায়নে এসইসি’র কাছে সময় চাওয়া হয়েছে।’’
তবে এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস হিসাব বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে সে অবস্থান থেকে আবার সরে এসেছে। ফলে নানাভাবে অপব্যবহার হওয়া অমনিবাস হিসাবগুলো এসইসি’র নজদারিতে আদৌ আসছে কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এদিকে সর্বশেষ সোমবার এসইসি’র সার্ভিল্যান্স সফটওয়ার উদ্বোধনকালে সংস্থাটির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেন, ‘‘যতো দিন পর্যন্ত না অমনিবাস হিসাবগুলো বন্ধ করে পৃথক বিও হিসাব খোলা হচ্ছে, ততো দিন এসব হিসাব তদারকি করা সম্ভব হবে না।”
এতে সার্ভিল্যান্স সফটওয়ার চালু করা হলেও নজরদারির বাইরেই থেকে যাচ্ছে অমনিবাসের মধ্যে থাকা দেড় লাখেরও বেশি বিও হিসাব।
জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেনে ব্যবহৃত বিও হিসাবের মাধ্যমে করা প্রতিটি লেনদেনই ডিএসই, সিএসই সার্ভিল্যান্স সফটওয়ারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব। এ ধরনের বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কোনো গ্রাহকের লেনদেনই এসইসি’র সার্ভিল্যান্স সফটওয়ারের মাধ্যমেও তাৎক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব হবে না। যা বিও হিসাব ও অমনিবাস হিসাবের মধ্যে থাকা গ্রাহকদের হিসাবের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করবে।
এ বিষয়ে একটি সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারী তুষার বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘যতো ধরনের অনিয়ম মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমেই হয়েছে। এসইসি সার্ভিল্যান্স সফটওয়ার চালু করলেও শেষমেশ অমনিবাস হিসাবগুলো তদারকির বাইরে থেকে গেল। যা ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের গ্রাহকের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি করবে।”
মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে এ ধরনের পদ্ধতি বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই সব দেশের সার্ভিল্যান্স সফটওয়ারও সেই আদলেও তৈরি করা। তাই আমাদের দেশেও এ ধরনের তদারকি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। যে পদ্ধতিতে অমনিবাসের লেনদেনও তাৎক্ষণিকভাবে তদারকি করতে পারবে।’’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শেয়ারবাবাজার ধসের কারণ নির্ণয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে অমনিবাস হিসাবকে ভূতুড়ে হিসাব বলে মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে অমনিবাস হিসাব বন্ধের ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি অমনিবাস বন্ধ করে প্রতিটি গ্রাহকের জন্য পৃথক বিও হিসাব খোলার নির্দেশনা দিলেও তা লোক দেখানোই রয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১০৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১২
এইচএমএম/ সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com;জুয়েল মাজহার,কনসালট্যান্ট এডিটর