 |
| ছবি: জাহিদ সায়মন ও রুবেল/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: রাজধানীর শাহবাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
তৌহিদ জামান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের (আইআর) ওই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার বিকালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হলে সন্ধার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।
একে একে শাহবাগ, বাংলামটর, সাইন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোড, নীলক্ষেত, পলাশী, দোয়েল চত্ত্বর ও রমনা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর করতে থাকে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। নীলক্ষেত ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় দু’টি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা।
ঢাবি শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে জামানকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বাংলানিউজকে জানান, নিহত জামান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের (আইআর) ২য় বর্ষের ছাত্র। তিনি বঙ্গবন্ধু হলের ২০৮ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে রাস্তা পারাপারের সময় রাজধানী পরিবহনের একটি বাস জামানকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। জামান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রলীগের জাতীয় শোক দিবসের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হলে ফিরছিলেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একজন কর্মী।
পরে নিহতের লাশ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ।
রাতেই গ্রামের বাড়িতে জামানকে দাফন করা হবে বলে বাংলানিউজকে জানান সোহাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, দুর্ঘটনার খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু হল ও আইআর বিভাগসহ ঢাবির শত শত বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসেন। এসময় তারা নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর করতে থাকেন। শাহবাগের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাংচুর করেন তারা। পরে শাহবাগ, রমনা, টিএসসি চত্ত্বর, দোয়েল চত্ত্বর, বাংলামোটর, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন চারপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেকে বিক্ষোভ চলছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে শাহবাগ মোড়ে তিন-চারটি প্রাইভেটকার ভাংচুর করেন। পরে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে এসে ১২টি বাস, একটি তেলবাহী লরি ও তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে। বাংলামোটর পর্যন্ত আরো অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করেন শিক্ষার্থীরা। সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত ভাংচুর করা হয় আরো প্রায় ৪০টি গাড়ি। ঢাকা কলেজের সামনে ৮ নম্বরের একটি ও নীলক্ষেত মোড়ে ফাল্গুন পরিবহনের একটি গাড়িতেও আগুন দেন শিক্ষার্থীরা।
লাশের সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘‘রাজধানী বাসের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পান জামান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। আমরা লাশ নিয়ে যাচ্ছি গ্রামের বাড়িতে। সেখানে ময়নাতদন্তের পর নিহতের নামাজে জানাজা ও দাফন হবে।’’
এ ব্যাপারে ডিএমপি’র রমনা জোনের এডিসি শিবলী নোমান জানান, সহপাঠীর মৃত্যুতে আবেগবশত রাস্তায় নেমে বাস ভাংচুর করতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আরো পুলিশ এনে ছাত্রলীগের সহায়তায় ছাত্রদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাসটির চালক ও হেলপারকে বাসসহ আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১০১০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১২
এমএইচ/ সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর