 |
টাইম মেসিন-১
যা যা বলতেছি চলতেছি হাঁটতে হাঁটতে কি কি করলে ঘটে যাবে সব কিছু রাতারাতি নাহলেও কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তারপরেও পাখিদের পথ দিয়ে কথা চলাচালিই শুধু না অনেক রকম সৌজন্যতার পরেই এমন শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার জন্ম হচ্ছে আর আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছি অস্থির হয়ে যাচ্ছি আমাকে টাইম মেসিন থেকে নামাও।
টাইম মেসিন-২
যা যা বলতেছি বলবনা বলতেছি যা যা
আপনিতো এমনিতেই জানতেন সাইনবোর্ডে কি লিখবেন
ট্রেন এসে কই যাবে আপনাকে-ছাড়া!
আপনিতো লাইন-ম্যানও হইতে পারতেন বা লাইন-মাস্টার
তা-না হয়ে আপনে হইলেন ভাইস-চেয়ারম্যান
তাইতো এতো গণ্ডগোল হচ্ছে
প্রেমিকার চিঠি কেড়ে নিয়ে গেল একটা ফালতু সফ্টওয়ার
সময় শেষ, আর লাইনও এতো বড়-যে সবাই চাইছে লটারি-টা জিততে।
টাইম মেসিন-৩
তোমার সাথে আমার অনেক মিল ছিল
তার মধ্যে একটা হল ধাঁধার খেলা
অন্ধখাতা শব্দ দেয়াল তুলছিলো
এমন অনেক ফালতু কথা, ভাবনা ব্যথা এলোমেলো চলছিলো
এখন সময় কয়টা বাজে?
হয়তো সময় ঠিক বারোটা কিংবা রাতের গোলকধাঁধা
দূরের ট্রাকটা হারিয়ে গেল,সহজ একটা গ্রাম ছিল
ট্রাকের উপর মাল ছিল, মালের উপর মানুষগুলি
মনের মধ্যে বন ছিল
টাইম মেসিন-৪
দূরে দূরে থাকাটাই ভুল
রাতের পাহাড় থেকে ডাক দিয়ে কে যায়?
আমি তারে দেখিনাই আজো
পাখি-গুলি ঝাঁকে ঝাঁকে চলে গেছে শেষবার, বালুঘরে ছানা-গুলো রেখে
এখনো সময় বাকি, বাচ্চা-গুলো রাস্তায় মা মা করে ছুঁটে আসছে
কোন সিগনাল মানছেনা তারা, লাইসেন্সও নাই তাদের কোনও
সরাসরি তাক করে দৃষ্টি,
ডাইভ দিচ্ছে..
টাইম মেসিন-৫
এখন পৌনে-পাঁচটা বাজে
সরকারি হিসাবে দুই এক মিনিট কম বেশিও হতে পারে
কিন্তু ঐ হিসাবটা কেউ তেমন সিওর না।
রাস্তার মাঝখানে সার্কাস পার্টি কসরত দেখাচ্ছে
লাফ ঝাঁপ নৃত্য; মানুষের ব্যাবাক ভিড়
কেউ কেউ কলা খাওয়াচ্ছে বানরকে
বাসের জানলা থেকে বাদাম ছুঁড়ে মারছে,
মানুষ আর মানুষ।
ডাবল-ডেকার বাস গুলো অফ রুটে ঢুকে
তার-মার ছিঁড়ে বিদ্যুতের পোল উপরায়ে ফেলছে
আর কেউ কেউ জ্যাম দেখে-
সিনেমা হলে ঢুকে সেই কখন থেকে বসে আছে
কিন্তু কারেন্ট নাই
যাদের হাতপাখা ছিলোনা তারা হাঁটা দিল
কেউ কেউ বাস থেকে নেমে
রাস্তার ঐ পাড়ে গেল
হেলপার বলে,
‘ওস্তাদ ডাইনে কাটেন ঐ দিকে একটা গলি আছে’
ফাঁকা বাস,
একজন প্যাসেনজারও আর বাকি নাই
কন্ট্রাক্টরটা-যে কই?
ড্রাইভার কি করবে কিছুই জেনে পাচ্ছেনা!
টাইম মেসিন-৬
রাস্তায় এক্সিডেন্ট
ফুটপাতে চাকার নিচে কমলালেবু
রক্ত কালো কালো বাসের সামনের জানালার নিচে
দুইজন গুরুতর আহত
ভেনিস্!
রাত আটটার বেশি, রাস্তা পার হব, ঐপারে..
কোন দিকে যাবো বলো? চারিদিকে হরতাল!
গাড়িগুলি লেপ্টে যাচ্ছে রাস্তায়
পাতাল দিয়ে চলে যাচ্ছে গুলিস্থান
আর কোন স্টপেজ নাই, কেউ নামতে পারবেনা,
ডাইরেক্ট যাব না।
এইখানে আমি রাস্তা পার হচ্ছি
একটু পরেই তোমার সাথে দেখা হবে।
সন্ধ্যা ছয়টার পরপরই আমাদের দেখা হবার কথা থাকে
প্রায়ই তুমি আসো না, বিভিন্ন কারণে তোমার আসা হয় না
কিন্তু অন্য সময়েও আমাদের দেখা হয়
আমরা সব দেখতে পারি,
পাঁচ, দশ, বিশ বছর, চল্লিশ আর পারি না আপাতত
তবে সব ঠিকঠাক আছে
কখন, কিভাবে যা হবে
একটা শক্ত বেরিকেট,
নদীকে হাত দিয়ে তুলে রাস্তায় নামিয়ে দেই আয়।
টাইম মেসিন-৭
হাঁটতে হাঁটতে যেখানে সেখানে
যেদিক সেদিক
এখানে ওখানে…
কী যে করি? কোথায় যাই!
কুড়াল দিয়ে কোপাতে কোপাতে বুকের ভেতর
অনবরত ফোন করি
কখনো বন্ধ, কখনো রিসিভ করিস না।
রাতের বেলা ট্রাক থেকে ইট নামায়
শব্দ হয়, আবার থামে
আবার ফোন দেই।
চোখ বুজলেই চমকে যাই
রাস্তা ফাঁকা
ট্রাক চলে যাচ্ছে
আমি যেতে চাচ্ছি সময়ের আগে
পারতেছি না।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, ১৮ জুলাই, ২০১২