৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, সোমবার মে ২০, ২০১৩ ৮:২২ এএম BDST banglanew24
01 Aug 2012   12:12:59 PM   Wednesday BdST
E-mail this

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব

পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসী কমিউনিটির পত্তন


কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, নিউইয়র্ক থেকে
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসী কমিউনিটির পত্তন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব

কয়েক দশক আগেও নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে হাতে গোনা কিছু মানুষ ছিল। ৯০ দশকের পর থেকে বাংলাদেশিদের আগমন বাড়তে থাকে। যত দিন যাচ্ছে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিধি বাড়ছে। আর এই কমিউনিটির গোড়াপত্তন হয়েছে বাংলা ভাষার পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৭ সালে প্রবাসী পত্রিকার আত্মপ্রকাশ, এরপর সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে সেতুবন্ধন রচিত হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে গুলশান টেরেসে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘কমিউনিটি বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুল হক এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মীর শিবলী ও পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান।

বক্তারা আরও বলেন, “পর্যায়ক্রমে পত্রিকা বেড়েছে, সেসঙ্গে বেড়েছে কমিউনিটির কার্যক্রমও। তবে এসব পত্রিকা পেশাগত মান তেমন বাড়েনি। সাংবাদিকতার নীতিমালাও মাঝেমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে কিছু পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের কারণে। কমিউনিটি বিনির্মাণে যেমন গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সংবাদ কর্মীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন বা নগদ অর্থের কাছে সাংবাদিকরা যেন নিজেদের বিকিয়ে না দেন, এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

এদিনের আলোচনা সভায় একাধিক বক্তার বক্তব্যে উপরে উল্লিখিত কথা বেরিয়ে আসে। আলোচনা সভায় প্রশ্ন-উত্তর পর্ব থাকায় পুরো অনুষ্ঠানটি বক্তব্য এবং পাল্টা বক্তব্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী  প্রতিনিধি ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন, কনসাল জেনারেল শাব্বির আহমেদ চৌধুরী, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও মুজিব উর রহমান, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ ও বদরুন্নাহার খান মিতা, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী শহীদ হাসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাংবাদিক শরিফ শাহাবুদ্দিন, মাহমুদ খান তাসের ও দর্পণ কবীর, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম দিদার, উত্তরবঙ্গ সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকার সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, কমিউনিটি নেতা বেদারুল ইসলাম বাবলা, বিএনপি নেতা সোলেমান ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী হোসেন জব্বার শৈবাল প্রমুখ।
 
কমিউনিটি নেতা, সুধী, পেশাজীবী এবং সংবাদকর্মীদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নির্মল পাল, এটিএন বাংলা ইউএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, দৈনিক ইত্তেফাক এবং বাঙালীর বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রিজু মোহাম্মদ, এনটিভির সাংবাদিক তৌহিদ ইসলাম, রেডিও টুডের সাংবাদিক মুজিবুর রহমান, আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ ও বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ ওয়ালিউল আলম, ডা. মাসুদ হাসান, টিপু আলম, এটিএন বাংলার পরিচালক গাফাফার আহমেদ কিরণ, আজাদ ভিশনের আজাদ আহমেদ, ব্যবসায়ী শহিদুল হক টুটু, শ্রমিক লীগ নেতা সামসুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, শিক্ষাবিদ ড. মনসুর খান ও নাঈমা খান, আনিসুল কবীর জাসীর, এমদাদুল হক কামাল, আজাদ বাকীর, আবুল কাশেম, আশরাফুল হাসান বুলবুল, আকবর হায়দার কিরণ, তৌফিক কাদের, শারমিন রেজা ইভা, আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ মান্নান, ফারহানা চৌধুরী, ওমর চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর শিবলী এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল আহসান।

প্রথম বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নার্গিস আহমেদ বলেন, “কমিউনিটি বিনির্মাণে গণমাধ্যমের অবশ্যই ভূমিকা রয়েছে। ছাতার মতো সংগঠন বাড়লেও আমি মনে করি, সংগঠন বাড়ে বলে সামাজিক কার্যক্রমও বাড়ে। সংগঠন আছে বলে ইফতার পার্টি হয়, বনভোজন হয় এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্য দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন যায়, কেনাকাটা হয়।”

তিনি প্রবাসের পত্রিকাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “পত্রিকায় ব্যক্তিগত আক্রমণ, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ ছাপা, তথ্য বিকৃত করে সংবাদ ছাপা, এক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে, অন্য পত্রিকায় একই সংবাদ ভিন্নভাবে ছাপা হচ্ছে। ঈর্ষা, বিরোধ, কোন্দল আমাদের মধ্যে লেগেই আছে। তিনি কমিউনিটি বিনির্মাণে মন-মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া জরুরি বলে অভিমত প্রকাশ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে যিনি সাংবাদিকতা জানেন না বা তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা না থাকলেও অর্থের জোরে পত্রিকার মালিক সেজে যাচ্ছেন। সাংবাদিকতা না শিখে এ পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন। এতে কমিউনিটিতে খারাপ প্রভাব পড়ছে। কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

মুজিব-উর রহমান বলেন, “বিকৃত সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা দেখি পত্রিকাগুলোতে। সাক্ষাৎকারে যা বলি, ছাপা হলে দেখি ভিন্ন।”

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লহ বলেন, “আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে। আমাদের মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে তাদের সামনে। কমিউনিটির বিনির্মাণে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মিডিয়ার প্রতি কমিউনিটি নেতাদের আস্থা রাখতে হবে। আমরা একে অন্যের সহযোগিতা না পেলে কার্যত কমিউনিটি এগুতে পারবে না।”

রতন তালুকদার বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির গোড়াপত্তন বাংলা ভাষার পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৭ সালে প্রবীণ সাংবাদিক প্রবাসী পত্রিকা বের করেছিলেন। এরপর ঠিকানা বের হয়। পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে কমিউনিটিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি অধ্যায় রচিত হয়। সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে কমিউনিটির অস্তিত্ব সৃষ্টি হয়। কিন্তু মিডিয়া বা সাংবাদিকরা কমিউনিটির কাছ থেকে এর স্বীকৃতি পায়নি। বরং দেখছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কমিউনিটি নেতারা।” কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মিডিয়াকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।

শরিফ শাহাবুদ্দিন বলেন, “নিউইয়র্কেও সাংবাদিকরাও হুমকি পান। কখনও কখনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের পাশে কিন্তু কমিউনিটির নেতারা দাঁড়ান না। একটি সমাজ বা কমিউনিটি গঠন করতে হলে সাংবাদিক এবং সুধীজনদের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং শ্রদ্ধার সেতুবন্ধন রচনা করতে হবে। একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

বদরুন্নাহার খান মিতা বলেন, “সাংবাদিকদের সত্যের অনুসন্ধান করা উচিত। কোনো অভিযোগ পেলে এর সত্যতা যাচাই করা দরকার। কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রয়োজন। মিডিয়া ছাড়া কমিউনিটির বিনির্মাণ সম্ভব নয়।”

সোলেমান ভূঁইয়া বলেন, “কমিউনিটিতে পত্রিকা বের হোক, তবে মিথ্যা সংবাদ যেন প্রচার না হয়। আমাদের কাছে মিডিয়া অর্থাৎ সাংবাদিকরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। তারা সত্য কথা লিখবেন-এটাই সকলে আশা করে। তাদের সংবাদ সকলে বিশ্বাস করে। লক্ষ্য রাখতে হবে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে যেন কারো বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়।”

বেদারুল ইসলাম বাবলা বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি দেখলে তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলি।”

তিনি আরও বলেন, “শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে বা লিখতে পারে না, এমন ব্যক্তি নিউইয়র্কে পত্রিকার সম্পাদক হয়ে যাচ্ছেন। এটা কমিউনিটির জন্য মঙ্গলজনক নয়।”

হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, “সাংবাদিকরা কমিউনিটিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। তারা অনেক কষ্ট করছেন, তবু এ পেশায় নিযুক্ত থাকছেন। তাদের ত্যাগ স্বীকার আমরা দেখার চেষ্টা করি না।” সময়ের স্বল্পতার কারণে কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “সাংবাদিকরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করলেই কমিউনিট তথা সমাজ-রাষ্ট্র এগিয়ে যায়। প্রবাসেও সাংবাদিকরা কমিউনিটি বিনির্মাণে ভূমিকা রাখছেন-এ কথা স্বীকার্য।”

আলোচনা শেষে সমবেত সবাই ইফতার পার্টিতে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০১
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান