 |
আমরা চলার পথে অনেক সময় কলার খোসা, পশুর হাড়, ব্লেড, পানি, ময়লা-আবর্জনা, কাঁটা ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখি। কারণ, আমরা অনেকেই কলা খেয়ে রাস্তায় খোসা ফেলে দিই। কিন্তু পরে সেই খোসায় পিছলে পড়ে কারো কোমর ভাঙতে পারে সেদিকে খেয়াল করি না। অনেকে আবার রাস্তায় বা নিজের বাড়ির সীমানার বাইরে ময়লা-আবর্জনা ফেলি। এতে যে অন্যের ক্ষতি হতে পারে, কষ্ট হতে পারে সেটা ভাবিনা। এসব কষ্টদায়ক বস্তু কোনো মতে নিজেদের কাছ থেকে সরাতে পারলেই রক্ষা।
আমরা যদি একে অন্যের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সচেতন না হই, তাহলে অন্য কারো ফেলা খোসায় পিছলে পড়ে আমাদেরও কোমর ভাঙতে পারে, আমাদের বাড়িও হতে পারে দুর্গন্ধযুক্ত অস্বাস্থ্যকর। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেরা নিরাপদ ততক্ষণ আমরা অন্যদের কথা ভাবিনা। যা ইসলাম সমর্থন করে না। বরং ইসলামে নিজের কারণে যাতে অন্য কারো ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে, অন্য কারো ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু রাস্তায় দেখলে তা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত হাদিসে রাস্তা থেকে ডালপালা বা কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলার ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) বলেছেন, একদিন একব্যক্তি চলার পথে এক স্থানে কাঁটাযুক্ত ডাল পড়ে থাকতে দেখে সেটি রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেললেন। এতে আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে তার কাজের মর্যাদা দিলেন এবং তাকে ক্ষমা করলেন। -(সহিহ বুখারী-১৩৫৯)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) বলেছেন, কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরানো হচ্ছে সাদকাহ্। (বুখারী: ২৯৮৯, মুসলিম: ১০০৯)
তাই আসুন আমরা রাস্তা বা আশপাশে ক্ষতিকারক ও কষ্টদায়ক বস্তু ফেলা থেকে বিরত থাকি এবং রাস্তায় এসব বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে মুখ ফিরিয়ে চলে না গিয়ে যথা সম্ভব তা সরিয়ে ফেলে অন্যদের পথচলা নিরাপদ করি এবং অশেষ সওয়াবের অধিকারী হই।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১২
শিমুল সুলতানা