বালিশের বাদশাহী
বাতাস ঠেঙিয়ে ঘুমে, মৃত্যুর নিপুণ ভান
থুতনিতে খোঁচা খোঁচা দাড়ি
ঘুম ঘোরে বৃত্তান্ত ওল্টাতে চাইলে
গেরস্তের পিছন দরোজা দিয়ে পালায়
ভাঙ্গা চশমার অক্ষম পুরুষ
টেবিলের জমা স্তুপ ডিঙাতে ডিঙাতে
মন যায় অশ্লীল গল্পের আসরে
তখন নগ্ন হওয়া গাছেদের মতো
তড়পাই, আমি তো উড়াল শিখিনি তাই
পানের পিকের মতো কায়ক্লেশে বাঁচি
সবাই ভাবুক-- আমিও, অর্শ আর বাতের
ভাবনায় স্বাস্থ্য বিভাগের ডাকঘরে চিঠি লিখি
রাতে জল ঢুকছে ভেবে তেল চিটচিটে বালিশে
মাথা রাখি, পাশে স্খলিতস্তনা, স্বস্তির নিঃশ্বাসে
আকবর বাদশার মতো কটকটি আঙুল বাজাই।
মাটির মিহিন ভাঁজে
গুহার প্রান্ত সীমায় শীতকাল এলে
প্রত্নমানবের মতো
আমিও বেরিয়ে পড়ি খড়কুটো সংগ্রহের ধান্দায়
সাপের খোলসে পুনর্জন্মের দেখা পেয়ে
ভুলে যাই সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার তাড়া
ল্যাম্পপোস্টের শেডে জীবন প্রত্থিত হয়
ইটের ভাঁজে গাছের ফসিল পাওয়া যাবে ভেবে
নিলামে চরাই স্থাবর জঙ্গম।
অভাবী মানুষ হাঁটে, রাতের আড়ালে
চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শন
খররোদে বিক্রি হলে রুক্ষ নিঃশ্বাস ভরে
চলে আসে ধুলো ওড়া দিন
বিষণ্ণতায় কাঁপে গাছের ছায়া
সাতরঙা আকাশ আলিঙ্গনে ডাকে না
স্বর্ণবীর্যে পোয়াতি আগুন আর তাদের নারীরা
বৈরাগ্য বাগানের আগাছা ছাড়ায় সোহাগী হাতে
মানুষের আদিখ্যেতা দেখে অট্টহাস্য করে
পৃথিবীর যাবতীয় ভাস্বর
মাটির মিহিন ভাঁজে মিশে যেতে যেতে
পাঠ করি মানুষের অশ্রুর ইতিহাস।
বাংলাদেশ সময় ১৮১২, জুন ১২, ২০১২