 |
| ফাইল ছবি |
ঢাকা: বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ২৬ ডিসেম্বরের জনসংযোগ ও পথসভা কর্মসূচিতে বাধা দিলে প্রয়োজনে টানা ৩, এমনকি ৭ দিনের হরতাল দেবে বিএনপি। এছাড়া রেলপথ ও রাজপথ অবরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ঘেরাও করবে তারা।
শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “২৬ তারিখের কর্মসূচিতে বাধা দিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
কি ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে ৩ দিন বা ৭ দিন টানা হরতাল দেওয়া হবে। এছাড়া রেলপথ ও রাজপথ অবরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।”
ওই দিন ১৩ স্পটে গণসংযোগকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অন্তত পাঁচটি স্পটে বক্তব্য দেবেন বলেও জানান তরিকুল।
সকাল ১১টায় গাবতলী থেকে বিরোধী দলীয় নেতার গণসংযোগ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বৃহত্তর মীরপুর, রমনা-তেজগাঁ, ডেমরা-সূত্রাপুর, খিলগাঁও-সবুজবাগ ও গুলশান-বাড্ডা এলাকায় একটি করে স্পটে বক্তব্য দেবেন বিএনপি প্রধান।”
তবে পথসভাগুলো উল্লিখিত জোনের কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই দিন দেশের সবক’টি সিটি করপোরেশনে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তরিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার যশোরে খালেদা জিয়ার ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
তরিকুল বলেন, “ভারত সরকারের আমন্ত্রণে বিএনপি চেয়ারপারসন এ সফরে দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অথচ এই সফর নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। যা তার পদে থেকে মানায় না।”
প্রধানমন্ত্রীর ‘নিজের চরকায় তেল দেওয়ার মতো’ অবিশষ্ট তেল নেই বলেই যত্রতত্র তেল খুঁজে বেড়াচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই মুখপাত্র।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল দাবি করতে পারে না। আমি বলতে চাই, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। আর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন।”
সরকারকে সতর্ক করে তরিকুল বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নিচ্ছে। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রাখলেও কেউ ঝড়ের আঘাত থেকে রেহাই পাবে না।”
“চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সন্ত্রাস, হানাহানি, বেপরোয়া দুর্নীতি আর লুটপাটের পরও এ সরকার নির্লজ্জভাবে মিথ্যাচার করছে।”
“শেখ হাসিনা যে আজম চৌধুরীর কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছিলেন তা তার ভাই শেখ সেলিম বলেছিলেন” স্মরণ করিয়ে দিয়ে তরিকুল বলেন, “তাদের লজ্জা নেই। এক কান কাটা গেলে মানুষ লজ্জা পায়। কিন্তু তাদের দু’কান কাটা যাওয়ায় লজ্জার আবরণ পুরোপুরি খুলে গেছে।”
তরিকুল বলেন, “এ সরকার আকাশ-বাতাস উত্তাল করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলছে। কিন্তু দৈনিক ৩/৪বার লোডশেডিং হয়। কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের কাজ দিয়ে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ টাকা তারা বিদেশে পাচার করছে।”
তিনি বলেন, “পদ্মাসেতু, কুইক রেন্টালের কতো টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়েছে, এসব টোক কার একাউন্টে গেছে জনগণ তা জানতে চায়।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, মহিলা দল সেক্রেটারি শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১২
এমএম/জেডএম