 |
ঢাকা: সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোসহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি এসব এলাকায় ট্যাংক ও কামান থেকে নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার বিরোধীরা।
শনিবার আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক এলাকায় বিভিন্ন লক্ষবস্তুতে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে সিরীয় বাহিনী। এছাড়া আলেপ্পোর নিকটবর্তী শহর আজাজ এবং শহরতলী এলাকা আল ফারদোস, আল সুকারি, বুসতান, আল জাহর এবং কালাসা এলাকাতেও জঙ্গিবিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়।
আলেপ্পোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সাদ আল আল্লাহ আল জাবরি স্কয়ার এবং দক্ষিণাংশের সালাহেদ্দিন জেলায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি সেনাদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
সিরীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সরকারি বাহিনীর সাফল্য দাবি করে জানায়, শনিবার আলেপ্পোর পশ্চিমাঞ্চলীয় সায়েফ আল সাওলা জেলা থেকে ‘সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে যোদ্ধাদের’ হটিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
আলেপ্পোর পাশাপাশি রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় তাদামোনেও উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হয়েছে বলে জানা গেছে।
দামেস্ককে বিদ্রোহী মুক্ত করা হয়েছে বলে এর আগে সরকারের তরফে ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনও সেখানে কিছু এলাকায় বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ অব্যাহত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি সেনারা হোমস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরাক নগরীর বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।
এদিকে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্যরা রোববারের মধ্যে সিরিয়া ত্যাগ করবেন। তবে দামেস্কে একটি লিয়াজো অফিস খোলা রাখা হবে বলে জানা গেছে। তবে এর আকার ও ভূমিকা কি হবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের মুখপাত্র।
এদিকে শুক্রবার সিরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক আল শারা পক্ষত্যাগের গুজব উঠলেও শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এর সত্যতা নাকচ করা হয়েছে। তবে তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি এর আগে জানিয়েছিলো ৭৩ বছর বয়সী সিরীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট শারা পক্ষত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত শারা সিরীয় সরকারের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে লেবানন থেকে বন্দুকধারীদের হাতে অপহৃত তিন সিরীয় নাগরিককে শনিবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
সম্প্রতি লেবাননের শিয়া মুসলিম মেকদাদ গোষ্ঠী বৈরুত থেকে ২০ সিরীয় নাগরিককে অপহরণ করে। সিরীয় বিদ্রোহীদের হাতে দামেস্কে তাদের এক সদস্যের অপহৃত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা।
সিরীয় নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের হাতে দুই তুর্কি নাগরিকও অপহৃত হয়। অপহরণের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের লেবানন সফর না করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নাগরিকদের সর্তক হয়ে লেবাননে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর