 |
| ছবি:সুমন্ত/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
শাহবাগ থেকে: বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলে ছোঁড়া জলকামানের গরম পানি নাকে ঢুকে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একই সঙ্গে ১৫/২০ জন শিক্ষককে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন শিক্ষকরা। তবে পুলিশ বলছে, দুটি অভিযোগের কোনোটারই ভিত্তি নেই।
নিহত শিক্ষকের নাম ইদ্রিস আলী। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তার পরিচয় নিশ্চিত করে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাণ্টুলাল সরকার বাংলানিউজকে বলেন, ``জলমাকামানের গরম পানি নাক দিয়ে ঢুকে ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হয়েছে। আর তার লাশ নিয়ে গেছে পুলিশ।``
এছাড়া বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা মনসুর আলীসহ ১৫/২০ জনকে আটক করে পুলিশ নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের তরফে।
তবে উভয় অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ``শিক্ষক মারা যাওয়ার বিষয়টি নিছক গুজব। দু’জন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।``
তিনি আরো বলেন, ``পুলিশের কাছে বাধা দেওয়ার জন্য দু’তিনজন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। দ্রুতই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।``
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ``যার মৃত্যুর হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে তার বিষয়ে বেশি কিছু জানি না। কোথায় কি অবস্থায় আছে তা-ও জানি না।``
এর আগে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি নিয়ে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওয়ানা হয়। কিন্তু শাহবাগ মোড়ের কাছে কেন্দ্রীয় গণ-গ্রন্থাগারের সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
এ সময় শিক্ষকরা ব্যারিডেক ভাঙার চেষ্টা চালালে জলকামান ছোড়ে পুলিশ। করে লাঠিচার্জও।
পুলিশি বাধার মুখে সেখানেই অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে পুলিশের রমনা জোনের এডিসি আনোয়ার হোসেন তাদের বলেন, ``সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি এখানে আসবেন না। শিক্ষকদের মনোনীত প্রতিনিধিকেই স্মারকলিপিসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌছে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।``
কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের ওই আহবান নাকচ করে দেন।
দুপুর ২টা নাগাদ ব্যারিকেড ডিঙিয়ে শিক্ষকদের একাংশ শাহবাগ মোড়ে চলে এসে মূল সড়ক অবরোধেরও চেষ্টা চালায়। তবে লাঠিপেটা করে তাদের শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এ সময় দিনাজপুর জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলামসহ কমপক্ষে ৫/৬ জন আহত হন।
এরপর পরিস্থিতি ফের শান্ত হয়ে আসে। তবে গণ-গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের সরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং অনেক শিক্ষককেই রাস্তায় শুয়ে পড়তে দেখা গেছে।
দুপুর দু’টার পরপর বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আব্দুর রহমান বাচ্চু বাংলানিউজকে জানান, স্মারকলিপি জমা দিতে হাতে গোনা ক’জন প্রতিনিধিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে রাজি নন তারা। হয় সবাইকে একযোগে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, নয়তো নিজেদের অবস্থানেই অনড় থাকবেন তারা।
চাকরি জাতীয়করণের দাবি মেনে না নিলে বিকেল তিনটায় লাগাতার অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে এর আগেই জানিয়েছিলেন তারা।
উল্লেখ্য, চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পৃথক চারটি সংগঠন সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় রাতে শহীদ মিনারে অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় বেসরকারি শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৮ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর