 |
ঢাকা: লাইলী এখনও জানেন না তার মা আর এ পৃখিবীতে নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২০২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় শুয়ে লাইলি ‘মা গো ও মা’ বলে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
ছেলে জুয়েল (১২) আর মেয়ে ইতিকে (৭) নিয়ে জামালপুর থেকে ট্রেনে করে রোববার দুপুরে লাইলী ঢাকায় আসেন। মা হেলেনা আক্তারের (৫০) সঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফকিরাপুল মালেক মার্কেটে গিয়েছিলেন জাকাতের কাপড় আনতে।
সেখানে পদপিষ্ঠ হয়ে গুরুতর আহত হন লাইলী (৩৮)। পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় তার মা হেলেনা আক্তারও আহত হলে পরিচিতজনরা তাকে উদ্ধার করে ফকিরাপুল এজিবি কলোনির পাশে বস্তিতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।
গভীর রাতে মা হেলেনা আক্তার মারা গেলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার মৃতদেহ কফিনে ভরে জামালপুরের গজারিয়ার চরের গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাদ সাধেন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকারম।
তিনি এক প্রকার জোর করে হেলেনার মৃতদেহ ভরা কফিন নিয়ে যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় মর্গে কফিনে মা হেলেনা আক্তারের মরদেহ। অন্যদিকে হাসপাতালের মেঝেতে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মেয়ে লাইলী।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন লাইলীর অবস্থাও ভালো নয়। এ কারণে তাকে জানানো হয়নি তার মায়ের মৃত্যু সংবাদ।
শুক্রবার মালেক মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় উৎসুক জনতার ভিড়। কেউ আবার কানাঘুষা করছে বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে ।
এদিকে জাকাতের কাপড় নিতে এসে নিহত হওয়ার ঘটনায় মতিঝিল থানার পুলিশ বাদী হয়ে মালেক মার্কেটের মালিকের স্ত্রী পারভীন বেগম (৪৫), মার্কেটের মালিকের ভায়রা শাহজাহানসহ (৪৮) ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে।
কাইয়ুম শিকদার নামে ওই এলাকার ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে বলেন, মালেক মার্কেটের মালিক মালেক সাহেব জীবিত থাকতেও জাকাতের কাপড় দেওয়া হতো। কখনও এ রকম হয়নি। এবার সাহায্যপ্রার্থী বেশি হওয়ার কারণে ভিড় সামলানো যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
জেএস/সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর