 |
ঢাকা: জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মইন খান বলেছেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত নয়, আওয়ামী লীগকেই আগে নিষিদ্ধ করতে হবে।”
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারাগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে ‘বিবিসি বাংলা সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেতা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিবিসি বাংলা সংলাপে শনিবারের প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী নেতা ও খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিক আকবর হোসেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের উপর হামলার চালানোর প্রেক্ষিতে তাদের নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বির্তকে জড়িয়ে পড়েন প্রধান দুই দলের নেতারা।
আলোচনায় অংশ নেওয়া আব্দুল মঈন খান বলেন, “সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে, তাহলে গত চার বছরে সারাদেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য তাদেরকে আগে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে না কেন?”
তিনি আরো বলেন “আমি মনে করি, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত।”
এ সময় মঞ্চে থাকা দর্শকরা করতালি দিয়ে এ বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি জটিল প্রশ্ন। এটি নিয়ে দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কোন সংগঠন যদি দলের ব্যানারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়, তখন তাদের ব্যাপারে জনগণই রায় দেবে।”
এরপর এক পর্যায়ে জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদিলুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কোন সংগঠন বা দলকে নিষিদ্ধ করা সমর্থন করতে পারি না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাদের দমন করতে গিয়ে রাষ্ট্র যেন সন্ত্রাসী ভূমিকা না নেয়।”
কাবেরী গায়েন বলেন, “নিষিদ্ধ করে কোন ফলাফল পাওয়া যায় না। বরং জনমত গ্রহন করেই সামাজিক সচেতনতা বাড়তে হবে।”
৯৭ ভাগ সংসদ সদস্য নেতিবাচক কাজের সঙ্গে জড়িত- টিআইবির এমন প্রতিবেদন নিয়ে এক দর্শক মতামত জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, “পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা অনুযায়ী টিআইবি রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য, এটি বৈজ্ঞানিক জরিপ।”
রাজ্জাক তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, “মাঠ পর্যায়ে তথ্য নিয়েই টিআইবি রিপোর্ট দিয়েছে। তবে রিপোর্ট উন্নত করার বিষয়ে তাদের নজর দেওয়া উচিত।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দুদুকের মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে, এটা উচিত কিনা- আব্দুল কাদেরের এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা পাবে না। বরং যারা অভিযুক্ত তাদেরকে তদন্তের জন্য দুদকে হাজির করা হচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মঈন খান আরও বলেন, “বর্তমান সরকার সাড়ে ৭ হাজার মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করেছে। সরকার কখনই অন্যায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। করলেও জনগণই রায় দিবে।”
যাদের দুদকের আনা হচ্ছে, তা কি তদন্তের জন্য নাকি সততার সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য- এমন প্রশ্নের জবাবে আদিলুর রহমান বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”
রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন- সালমা আক্তারের এমন প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, “এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মানবিক হতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, জীবন মরণের প্রশ্নে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে হবে। বিশ্ব সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।”
আব্দর রাজ্জাক বলেন, “রাখাইন প্রদেশের সমস্যা অনেক পুরাতন। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। ক্যাম্পে এখনও প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ও পার্বত্য অঞ্চলে চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। এরপরও বাড়তি চাপ নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
কাবেরী গায়েন বলেন, “এটি একটি আন্তজাতিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক ভাবে সমাধানের জন্য বাংলাদেশকে ভূমিকা রাখতে হবে।”
আদিলুর রহমান বলেন, “এটি জাতিসংঘ ও আশিয়ানের ব্যর্থতা। তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ সময় ১১২০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪,২০১২
এনএম/ সম্পাদনা: হাসান শাহরিয়ার হৃদয়, নিউজরুম এডিটর eic@banglanews24.com