 |
| ছবি:মোশারফ/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: মানবাধিকার সম্পর্কে দেশের ৫১ শতাংশ মানুষের কোনো ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
রাজধানীর মগবাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস কর্মী খুনের বিচার না হওয়ায় বিদেশিদের উদ্বেগ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কত সংখ্যক মানুষ মানবাধিকার সম্পর্কে জানে তা তার জানা নেই।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের সমালোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মজিনা ওই রিপোর্টটি ভাল করে পড়তে বলেন।
মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্পদের অপ্রতুলতা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মপন্থা, সমস্যা সম্পর্কে জানতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসেছেন।
তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানকে মানুষের স্বার্থে যদি পুরোপুরি সক্রিয় হতে হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও সাহায্যে-সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কয়েক ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্যে প্রার্থনা করেছি।
এর জবাবে রাষ্ট্রদূত তাকে লিখিত চাহিদাপত্র দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বলে মিজানুর রহমান জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন মানবাধিকার প্রসঙ্গে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেসময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্যও শোনার অনুরোধ করেছি রাষ্ট্রদূতের কাছে। এর ফলে মার্কিন জনগণ ও কংগ্রেস বাংলাদেশ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিতে পারবে।
জবাবে রাষ্ট্রদূত তাকে বলেছেন, এটি তার এখতিয়ারভুক্ত নয়। কংগ্রেস ইচ্ছা করলে যে কাউকে ডাকতে পারে। মজিনা এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সক্রিয় ভ’মিকা রাখতে বলেছেন বলে মিজানুর জানান।
কমিশন চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ লোকই মানবাধিকার সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না। তাই এ বিষয়ে তারা কোথায় যাবে তা তারা জানে না। আর তাই সবার আগে প্রয়োজন এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
মজিনা বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন সম্পর্কে জানতেই আজ আমি এ প্রতিষ্ঠানে এসেছি। আমি একটু পেছনে ফিরে যেতে চাই। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালে আমি ঢাকায় কর্মরত ছিলাম।
আমি তখন কেন এখানে আসিনি-- এ প্রশ্ন করতেই চেয়ারম্যান আমাকে বললেন, তখন এ প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্থিত্বই ছিলো না।
তিনি বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা মার্কিন ফরেন পলিসির অঙ্গ। বাংলাদেশ সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার কাছে মানবাধিকার ইস্যুর বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এ নিয়ে বিশদ পরিসরে আলোচনা করেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিবেদন মে মাসে প্রকাশ করেছে যা ওয়েবসাইটে সহজলভ্য। বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে সরকার-সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ত।
মজিনা বলেন, উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, র্যাব সম্প্রতি মার্কিন সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে গুম ও বিচার বহিভ’ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র র্যাবকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করতে চারমাসের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এ ধরণের মার্কিন সহযোগিতা র্যাবের মানবাধিকার ধারণা উন্নয়ন করতে বিশাল সহযোগিতা বলে মজিনা মনে করেন।
মজিনা বলেন, আমরা পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা করে থাকি কারণ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিলম্বকরণ জনগণকে হতাশাগ্রস্থ করে তুলছে। এজন্য বিচার অনেক সময় ভুল হাতে পতিত হচ্ছে যা কাম্য নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মিডিয়ার উন্নয়ন ছাড়াও মানবপাচার বিরোধী আইন বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৯ ঘণ্টা, জুলাই ২৪, ২০১২
সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর