 |
| ফাইল ছবি |
চট্টগ্রাম: চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে সাক্ষীকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করার বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষের আইনজীবীর মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।
বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মহানগর পিপি বলেন, ‘একজন আসামির পক্ষে এত দীর্ঘণ জেরা করা তামাশার সামিল। এটা কোনো সাধারণ মামলা নয়। একজন আইনজীবী এতণ জেরা করলেন, আবার জার্সি পাল্টিয়ে আরেকজন জেরা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা কি তামাশা ? এটা কি সামারি ট্রায়াল হচ্ছে ?’
জবাবে বাবরের আইনজীবী মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘পিপি সাহেব, আপনি তামাশা শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি আদালতের ভাষা নয়।’
এর কিছুণ পরই মাহবুব আহমেদ জেরা শেষ করেন। আদালত পুনরায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেরার দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ও নগরীর বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সার্জেণ্ট আলাউদ্দিনের জেরা শুরু করেন বাবরের আইনজীবী। মাঝে একঘণ্টার বিরতি বাদে বাবরের আইনজীবী বিকেল ৫টা পর্যন্ত সার্জেন্ট আলাউদ্দিনকে জেরা করেন।
জেরায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আলাউদ্দিন বলেন, ‘২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর হাজত থেকে মুক্তি পাই।’ এরপর আসামির আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘ভুল তথ্য সরবরাহ করে জামিন নেওয়ায় তা বাতিল করা হয়’। এর জবাবে সার্জেন্ট আলাউদ্দিন বলেন, ‘জানি না।’
আসামির আইনজীবী জানতে চান, নোয়াখালির সুধারাম থানার অস্ত্র মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস একং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার শেখানো মতে আপনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এর জবাবে সার্জেন্ট আলাউদ্দিন বলেন, তা সত্য নয়। ওই জবানবন্দির বাইরে আরও কিছু বলার প্রয়োজন হলে তা বলার আশ্বাস দিয়ে আপনি চাকরিতে পুর্নবহাল হন। আইনজীবীর এমন প্রশ্নের জবাবে নেতিবাচক উত্তর দেন আলাউদ্দিন।
অস্ত্র আটকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনকারী এ সার্জেণ্ট গত ২৯ আগস্ট একই আদালতে এ মামলায় স্যা দিয়েছিলেন। এরপর তার সংপ্তি জেরাও সম্পন্ন হয়েছিল।
এর আগে এ মামলায় আরেক সার্জেণ্ট হেলালউদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।
দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের পর ২০০৫ সালে অস্ত্র চালান থেকে দু’টি একে-৪৭ অস্ত্র চুরি করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে এ দু’সার্জেণ্টের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় মামলা হয়। তাদের র্যাব গ্রেপ্তারও করেছিল।
২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে দু’জনই নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেন।
এদিকে আসামিদের মধ্যে যারা আদালতে হাজির তারা হলেন- জামায়াত নেতা ও বিএনপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, প্রতিরা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও ট্রলার মালিক দীন মোহাম্মদ।
অসুস্থ থাকায় সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এনামুল হককে আদালতে হাজির করা হয়নি।
এছাড়া সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত দু’আসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রণ্ট অব আসাম (উলফা)’র সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন বর্তমানে পলাতক আছেন।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে স্যা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআইর সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্ণেল (অব.) এ কে এম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন এবং সার্জেন্ট আলাউদ্দিন সহ ১৪ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৯ ২৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
আরডিজি, সম্পাদনা : তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর