ঢাকা : চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা ১৬ জুন থেকে দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তারা ৩১ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের এ ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ারও আলটিমেটাম দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণঅনশন শেষে শিক্ষকরা এ আলটিমেটাম ও আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
দেশের ২৪ হাজার বেসরকারি রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে তালা ঝোলানো হবে বলে জানিয়ে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদের মহাসচিব আব্দুর রহমান বাচ্চু বাংলানিউজকে বলেন, ৩১ মের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা না হলে আগামী ১৬ জুন থেকে দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু তাদের ভবিষ্যত শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন করতে এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। এ সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে স্কুলে তালাসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার ২০ জন শিক্ষক আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোজাও রাখেন। বিকেল পর্যন্ত গণঅনশন করে শহীদ মিনার ত্যাগ করেন সারা দেশের শিক্ষকরা।
সোমবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন সারা দেশ থেকে আসা কয়েক শত রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক। রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক শিক্ষকদের মোট ৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদ এ আন্দোলন পরিচালনা করছে।
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত ওই শিক্ষকরা গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাদের ওপর পুলিশ হঠাৎ করে নির্বিচারে লাঠিচার্জসহ বেধড়ক পিটিয়ে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে জলকামান দিয়ে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন চালায়। এতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক আহত হন। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাদের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। ওই দিন রাত ১২টায় তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে তার নিজ বাসভবন মারা যান।
রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আবদুর রহমান বাচ্চু আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বুধবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে মহাসমাবেশ করে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হবে। আমরা আশা করবো, এ সময়ের মধ্যেই দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবে সরকার।’
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী এর আগে তাদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারও বাস্তবায়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বুধবার বৈঠক হলেও সাধারণ শিক্ষকদের চাপের মুখে সরকারের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষক নেতাদের ডেকে পাঠিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। সমিতির ৩৪ জন প্রতিনিধি এ প্রস্তাব নিয়ে শহীদ মিনারে ফিরে সাধারণ শিক্ষকদের জানালে তারা প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এ সময় শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকদের প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাত পৌনে দশটার দিকে সরকারের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, সারাদেশে মোট ২৪ হাজার রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ হাজার শিক্ষক স্বল্প বেতনে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের চাকরি জাতীয়করণ অর্থাৎ তাদের বেতন স্কেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমান না করায়
মাসে মাত্র মাত্র ৪ হাজার ৯শ’ টাকা বেতন পান এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষকেরা। তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংসদ মহিউদ্দীন খান আলমগীরসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী-এমপি দাবি মেনে নেওয়ার বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ সময় : ১৮১৫ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১২
এডিএ
সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর