 |
| ছবি: রুবেল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে মতিঝিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ শেষ হয়েছে। পুলিশি অ্যাকশন ও ব্যাপক ধরপাকরের পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা শান্ত হন। ওই সময় পর্যন্ত মোট ৮ বিনিয়োগকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি শেখ মো. নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত উল্লাহ ফিরোজ, আবদুল্লাহ, শরফরাজ হোসেনসহ মোট ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর সোয়া ২টায় তাদের আটক করে মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মতিঝিলের এডিসি মোহাম্মদ ফারুকুল হক সাংবাদিকদের বলেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর করার অভিযোগ রয়েছে।
তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে কিনা -এ প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। সেখানে অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামালা চালিয়েছেন তারা। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশীদ চৌধুরী, বিনিয়োগকারী নেতা খায়রুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর ইকবালকে আটক করে মতিঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এর আগে পুলিশ আরও ৫ জনকে আটক করে।
৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের বেগ বাড়ায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মতিঝিল এলাকা। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে বিনিয়োগকারীরা মিছিল করে ডিএসই অফিস ঘেরাও করে। দুপুর ১ টা ৭ মিনিটে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে গাড়ি ভাংচুর শুরু করেন তারা।
এসময় পুলিশ ৫ জনকে আটক করে।
এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল ফটকের সামনে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে তারা এ বিক্ষোভ শুরু করেন।
দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ইত্তেফাক মোড় ও মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকার উভয় পাশের রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। এ সময়ে এ এলাকার দোকানপাটগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকও বন্ধ রাখা হয়।
এছাড়াও ডিএসই ভবনের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ে তাদের হাতে ঝাড়ু ও জুতা ছিল।
এরপর মতিঝিলের মধুমিতা ভবনের সব ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন বন্ধ করতে বাধ্য করেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা। এ সময় র্যাপিট সিকিউরিটিজ লেনদেন বন্ধ করতে না চাইলে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে হাউজটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিত-া হয়।
দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা প্রবেশ করতে গেলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গত সপ্তাহ থেকে বিনিয়োগকারীরা ৬ দফা দাবি করে বিক্ষোভ করে আসছেন।
এদিকে ব্যাপক বিক্ষোভে পুঁজিবাজারে পতন হওয়া সূচক ধীরে ধীরে উদ্ধার হচ্ছে।
সোমবার দিনের শুরুতে ব্যাপক দরপতন হয়।
মাঝে কয়েকবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।
দুপুর ২ টা ৪৯ মিনিটে ডিএসইর সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮৫৫ পয়েন্টে।
এ সময়ে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১৩টির দাম বেড়েছে, ৩১টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম
লেনদেন হয়েছে মোট ৩৩৭ কোটি টাকা।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক ৫১ পয়েন্ট কমে ৫৭৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল।
ওই সময় ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমে, ৫০টির বাড়ে এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৭টির দাম।
লেনদেন হয় মোট ১১৩ কোটি টাকা।
অপরদিকে দুপুর ২ টা ৫৪ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম কমেছে ৪৪টির, বেড়েছে ১১৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম।
মোট লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১১