 |
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমী ২২ মে মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, একক বক্তৃতা প্রদান করেন নজরুল-সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, নজরুল এক বিদ্রোহের নাম; যে বিদ্রোহ সাহিত্যিক এবং যুগপৎ সামাজিক। সর্বপ্লাবী বিদ্রোহের আগুনে তিনি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে চেয়েছেন অসাম্য, অন্যায় ও শোষণের মানববিরোধী অচলায়তন। তিনি বলেন, প্রগতির পথচলায় নজরুল আমাদের প্রধান সারথি।
একক বক্তা শিল্পী ফিরোজা বেগম বলেন, নজরুলকে আমাদের নিত্য স্মরণ করতে হবে কারণ নজরুল মানবসাধক। বিরল এই সাধকের প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছি শৈশবেই। ছোটবেলা থেকেই সাংগীতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সূত্রে গানের জগতে চলে আসি। তখন কলকাতা গিয়ে নজরুলের সাথে আকস্মিক পরিচয়। নজরুলের সান্নিধ্য আমার জীবনের প্রধান স্মৃতি ও প্রেরণা। তাঁর কাছ থেকে গান শিখে আমি প্রবেশ করেছি বাংলা সংগীতের ঐশ্বর্যময় ভুবনে। তিনি বলেন, বাঙালি মুসলমানকে সংগীত-সংস্কৃতিতে শামিল করতে নজরুল বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশ বিভাগ ও নজরুলের আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তাঁর সাথে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও তাঁর বিশাল জগতে পরিব্রাজন ব্যাহত হয়নি। কারণ নজরুল সংগীত আমাকে দিয়েছে নতুন জগতের সন্ধান। যে জগত মানবিক সৌন্দর্যে ভরপুর। আমার জীবন ও নজরুল অভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, নজরুল সংগীতের ক্ষেত্রে আমি অন্ধ অনুকরণ নয় বরং তাঁর সুরের কাঠামো অক্ষুণœ রাখার চেষ্টা করেছি, চেয়েছি নজরুলকে বৃহৎ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে। তিনি আরও বলেন, নজরুলচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের সকল সংকীর্ণতা দূর করে একত্রে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নজরুল সংগীত প্রসারের ক্ষেত্রে পথের কাঁটা দূর করতে হবে। নজরুল সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পীদের শুধু গায়কী আয়ত্তই যথেষ্ট নয় বরং কবির প্রাণময়তাকে অনুভবে রাখতে হবে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম। নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন নাশিদ কামাল, সুজিত মোস্তফা, প্রিয়াংকা গোপ, ড. অসিত রায় প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গাজী আব্দুল হাকিম, আলমাস আলী, গৌতম কুমার, ফিরোজ খান এবং সুমন রেজা খান।
বাংলাদেশ সময় ১৯১০, মে ২২, ২০১২
সম্পাদনা : ফেরদৌস মাহমুদ, শিল্প-সাহিত্য সম্পাদক