 |
চট্টগ্রাম: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে অভিযুক্ত জামায়াতের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাবেক বিএনপি নেতা ও এলডিপি সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম এবার প্রধান অতিথি হয়ে জামায়াত সমর্থক ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে ছিলেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকও।
একসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সরব থাকলেও এ দুই মুক্তিযোদ্ধা মঙ্গলবার নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চলমান এ বিচার নিয়ে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি।
কারও বক্তব্যেই ছিল না বিচারের মুখোমুখী হওয়া অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের নিয়ে কোন আলোচনা কিংবা সমালোচনা।
দু’মুক্তিযোদ্ধার এ ধরনের ভূমিকায় উৎফুল্ল হয়েছেন আয়োজকসহ উপস্থিত জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াত সমর্থিত ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি আবু তাহের খান।
অনুষ্ঠানে এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১৮ দলীয় জোটের নেতা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি, অনিয়ম, হত্যা, গুম, টেন্ডারবাজি, ৬ বার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি নেতা ইলিয়াছকে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীই হত্যা করেছে এবং আরও অনেক সিনিয়র নেতাকে হত্যার জন্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “অর্ধপাগল আর বদ্ধপাগলেরা এখন মন্ত্রিসভার সদস্য। শেখ মুজিবের নাম যদি মুছে যায়, বিতর্কিত হয় তার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগের নেতা ও এ সরকারের মন্ত্রীরা। এখন এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তারা পালাবার পথ পাবে না।”
অলি আহমদ বলেন, “আমাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-সাংসদের মাধ্যমে ২ লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। তারা সেখানে ঘর কিনেছে, ব্যবসা করছে। আওয়ামী লীগের ২শ’ সাংসদ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাংককসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করছে, যারা সময় খারাপ দেখলে কেটে পড়বে।”
শেয়ারবাজার কেলেংকারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এরশাদের সময় শেয়ারবাজার কেলেংকারি হয়নি, তখন হতো নারী কেলেংকারি। বিএনপির আমলে শেয়ার কেলেংকারি হয়নি। আওয়ামী লীগের আমলে দুইবারই শেয়ার কেলেংকারী হয়েছে। সরকার নীরব কেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা যদি এর সঙ্গে জড়িত না থাকে তাহলে এ ধরনের কেলেংকারি কি হতে পারে?”
অলি আহমদ স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ‘জাদুকর পিসি সরকার’, এরশাদকে ‘বিশ্ববেহায়া’ এবং ইনু ও মেননকে ‘এতিম পোয়া’ বা `এতিম ছেলে` বলে উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল ও জামায়াতের মহানগর আমির, ১৮ দলীয় জোটের নেতা ও সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, নগর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুসলেম উদ্দিন, মহাসচিব মো. ইকবাল, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হান্নান হোসাইন, মতিউর রহমান, আবদুল ওয়ারেছ, অর্থ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিঞা, দপ্তর সম্পাদক মো. রুস্তম আলী প্রমুখ।
বক্তারা গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ গ্রেফতার নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, “তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জাতীয় নেতাদের ফাঁসি দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আমরা এ জিঘাংসার রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে দেব না, প্রতিহত করবই।”
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বিএনপি সরকারের একসময়কার যোগাযোগমন্ত্রী অলি আহমদ পরবর্তী সময়ে জামায়াত দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে সাতকানিয়া-চন্দনাইশ আসনে প্রার্থী হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরাগভাজন হন। পরে নিজে এলডিপি প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১২
এআরএম/ জেডএম; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com