 |
| ছবি: উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের গণমিছিল কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ দলের ব্যানারে কর্মসূচীর আয়োজন করা হলেও এর পুরোটা জুড়েই ছিল ছাত্রশিবিরের শোডাউন।
আর গণমিছিলে উপস্থিত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মুখে শ্লোগান হিসেবে ছিল যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবি।
সোমবার বিকেল ৪টায় নগরীর নাসিমন ভবনের বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে এ গণমিছিল শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সাবেক মন্ত্রী ও নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গণমিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মীর মো.নাছির উদ্দিন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন, সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলম, নগর জামায়াতের আমির ও সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, যুবদল নেতা আবুল হাশেম বক্কর ও মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, ছাত্রদল নেতা আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল সহ ১৮ দলের নেতারা।
মিছিলটি নাসিমন ভবন চত্বর থেকে শুরু হয়ে লাভ লেইন মোড়, বৌদ্ধ মন্দির, চেরাগী পাহাড়, জামালখান ঘুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
এসময় সমাপনী বক্তব্যে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, `মিছিল-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সুন্দরভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিলের কর্মসূচী শেষ করেছি। এভাবে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করে আমরা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাব।`
তিনি বলেন, `দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ শেখ হাসিনার সরকারের হাত থেকে নিস্তার চায়। তারা শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করবেন তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সফল করতে হবে। সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।`
এদিকে ১৮ দলের গণমিছিলকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশংকায় সোমবার দিনভর নগরীতে সতর্ক অবস্থায় ছিল পুলিশ। বিকেলে নাসিমন ভবন সহ আশপাশের এলাকায় দেড় শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপি`র এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, `আমাদের কাছে তথ্য ছিল, চট্টগ্রাম কলেজ-মহসিন কলেজ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু শিবির কর্মী কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে মিছিলে থাকবে। তাদের ব্যাগের মধ্যে থাকবে লোহার রড এবং ইট ও পাথরের বড় টুকরা। তারা যে কোনভাবে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের চেষ্টা করবে বলেও আমাদের কাছে তথ্য ছিল।`
সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগরীর নাসিমন ভবন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিবিরের মিছিলগুলোতে স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে উঠতি বয়সের কিশোর, যুবকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। এছাড়া মিছিলের সামনে, পেছনে সবখানেই ছিল শিবিরের ব্যানার।
মিছিলের অগ্রভাগে এবং পেছনে শিবিরের কর্মীরা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং দেলওয়ার হোসাইন সাইদী সহ জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবিতে শ্লোগান দেন। তবে মিছিলের মাঝামাঝিতে থাকা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার নামে এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে ১৮ দলের অন্য কোন নেতাকর্মীর উপস্থিতি গণমিছিলে তেমন চোখে পড়েনি।
নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, `জামায়াত-শিবির গত কিছুদিন ধরে যেসব সহিংস কর্মকান্ড চালাচ্ছিল, তাতে গণমিছিলকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশংকা অমূলক নয়। এজন্য আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।`
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০১২
আরডিজি, সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর