 |
| ছবি: জীবন আমীর/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
আবার হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। লাখো মুসলমানের কাঙ্ক্ষিত মিলনমেলা। মানুষের কল্যাণকামী একদল নিঃস্বার্থ খোদা প্রেমিকদের এ জমায়েত আজকের অশান্ত পৃথিবীর জন্য অনেক বড় পাওনা।
চারিদিকে যখন সম্পদ আর মোহ-সম্মান নিয়ে মারামারি, নৈরাজ্য, এমন দুঃসময়েও কিছু মানুষ সব ভুলে গিয়ে চটের সামিয়ানার নিচে এসে আশ্রয় নেয়। সামান্য কয়েকদিনের জন্য হলেও এ যেন দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে পরিপূর্ণ পৃথিবীর বাইরের কোনো দৃশ্য।
আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে সামান্য একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল এ দাওয়াত ও তাবলীগের পথচলা। আজ তা সেই অশিক্ষিত ও অসহায় গ্রামাবাসী ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ আমেরিকার সুধি ও শিক্ষিতজনদের প্রাসাদের দোরগোড়ায়। বিশ্বময় আজ তাদের আনাগোনা, নির্ভয়ে নিঃসঙ্কোচে শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষগুলো জয় করে চলেছে আল্লাহ ভোলা অসংখ্য মানুষের হৃদয়রাজ্য।
এক ও পরম শক্তিমান আল্লাহ পাকের সাহায্য ও তার বিশেষ রহমত ছাড়া এ দৃশ্য সম্ভব হতো না। দাওয়াত ও তাবলীগের এ সাদাসিধা মেহনতের এই যে বিশ্বজয়, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নাম না জানা অনেক আল্লাহওয়ালাদের চোখের পানি, জুলুম ও অপমান সহ্য করার অবর্ণনীয় অনেক কাহিনী। সেসবের বদৌলতে আজ টঙ্গীর ইজতেমায় এতো মানুষ, টঙ্গীর পথে ঘাটে আজ এতো ভীড়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেহনতে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, এ দাওয়াত ও তাবলীগের সূচনাকালে যে প্রভাব খুব অল্প সময়ে একজন মানুষকে আমূল বদলে দিত-আজও কি তার পূর্ণ প্রতিফলন হচ্ছে- এক কথায় দেওয়ার মতো এর উত্তর নেই। তবুও মানুষ এ পবিত্র ও বরকতময় মেহনতে শরীক হচ্ছেন, যেটুকু সম্ভব নিজেদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হচ্ছেন- এটুকুও বা কম কি?
তারা নিজেদের মতামত ও রচনায় এ গুরুত্বপূর্ণ দিকটির প্রতি দাওয়াত ও তাবলীগের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছেন।
আল্লাহ পাকের ওপর একনিষ্ঠ ও অটল বিশ্বাস এবং তার রাসূলের (সা.) আদর্শের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ- এই ছিল যুগে যুগে আমাদের স্বর্ণালী ইতিহাসের একমাত্র প্রাণশক্তি। যতোদিন পর্যন্ত আমরা বাহ্যিক রং-ঢংয়ের চেয়ে আত্মিক শুদ্ধতা ও শক্তির ব্যাপারে সচেতন ছিলাম- কেউ আমাদের হারাতে পারেনি। যেদিন থেকে আমরা বহিরাবরণ নিয়ে মেতে গেলাম, আমাদের দূর্ভাগ্যজনক আজকের এ অধঃপতনের শুরু সেখান থেকেই।
প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমা এলে এ সত্যটি নতুন করে আবার মনে নাড়া দিয়ে যায়। চৌদ্দশ’ বছর আগে সুদূর মদীনার এক উম্মী নবী (সা.) যে পথ ও আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছিলেন, তা আঁকড়ে ধরা ছাড়া আমাদের আর কোনো সমাধান নেই। শুধুই কি তিনদিন জড়ো হয়ে সবাই মিলে বয়ান শোনা কিংবা এক প্লেটে বসে আহার করার সুন্নত বাস্তবায়ন? মোটেও তা নয়। যে মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মেওয়াত থেকে সূচনা হয়েছিল এ ঈমানী কর্ম তৎপরতার- তা যেন ছড়িয়ে পড়ে আমাদের মন মানসিকতা এবং ইবাদতের প্রতিটি স্তরে।
লোক দেখানো লৌকিকতা নয়, শুধুই তিনদিনের জন্য এ আয়োজন নয়, নিয়ম মানার জন্য টঙ্গীতে আসা-যাওয়া নয়- আজ বড় প্রয়োজন এ ইজতেমার শিক্ষাকে সারা বছর ধরে রাখার জন্য পূর্ণ অনুশীলন। ব্যবসা বাণিজ্যের কায়-কারবার থেকে নিয়ে নিজের ঘরের অন্দরমহল- সর্বত্র যেন ফুটে ওঠে সুন্নত ও নববী আদর্শের পূর্ণ বাস্তবায়ন- এতেই লুকিয়ে রয়েছে টঙ্গীর ময়দানে হাড় কাঁপানো শীতে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর প্রকৃত সাফল্য ও আনন্দ।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৩, ২০১৩
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা ইসলাম ডেস্ক মেইল: bn24.islam@gmail.com