 |
| ছবি : নূর এ আলম /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: পদ্মা সেতু তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ব্যাপারে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেছেন, সকল ঋণদাতারাই মহাজন। ঋণ কেউ দয়া দাক্ষিণ্য করে দেয় না, দেখে বুঝে দেয়, ঋণ গ্রহীতা সে ঋণ শোধ করতে পারবে কী না। গ্রামের মহাজনদের মতোই সুদে-আসলে সে ঋণের টাকা বুঝে নেয় ঋণ
দাতা।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ আয়োজিত, ‘পদ্মা সেতু: আমরাই পারবো’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি, আর পদ্মাসেতু করতে পারবো না, সেটা হতে পারে না। দেশপ্রেম আর অঙ্গীকার থাকলেই সম্ভব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই পদ্মাসেতু
তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন করে, তারা আহাম্মকের জগতে বাস করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু করবো।
গ্রামের মহাজনদের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের তুলনা করে মান্নান খান বলেন, সারা দুনিয়ায় ঋণদাতাদের একই চরিত্র। গ্রামের মহাজনরা কৃষকের সন্তানের পড়াশোনার জন্যে কখনো ঋণ দেয় না, দেয় চাষের জন্যে, তবে তার বদলে কেড়ে নেয় কৃষকের জমি।
তিনি বলেন, ‘আমি আগে ভাবতাম বিশ্বব্যাংক অন্য মহাজনের মতো নয়। কিন্তু এখন দেখি কোন পার্থক্য নেই। ১ কোটি টাকা ঋণ দিলে, শর্ত জুড়ে দেয় ৯০ লাখ টাকা বেতন হিসেবে কর্মচারীদের দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঋণ আমাদের দরকার নেই। আমরা নিজেরাই পারবো নিজেদের পদ্মা সেতু বানাতে। এমন কোন ঋণ নেওয়া যাবে না, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, নারীনেত্রী খালেদা আলম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময় ১৫২৮ঘণ্টা; ২৭ জুলাই ২০১২
এমএন/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর