১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ১২:২২ এএম BDST banglanew24
15 Aug 2012   07:18:19 PM   Wednesday BdST
E-mail this

নিউইয়র্কের রাস্তায় পানের পিক

টাইমসের রিপোর্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


কাউসার মুমিন, নিউইয়র্ক থেকে
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের রাস্তায় যত্রতত্র বিশেষ করে কুইন্স কাউন্টির দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক এলাকা জ্যাকসন হাইটসের দক্ষিণ এশীয় মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন রাস্তাঘাট ও এর আশপাশে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নোংরার বিষয়ে নিইউইয়র্ক টাইমসে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদক নিকোলাস হার্সনের লেখা ‘অন জ্যাকসন হাইটস সাইডউয়াকস, এ ট্রিট’স মেসি আফ্টারম্যাথ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি গত ১৩ আগস্ট নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই জ্যাকসন হাইটস এলাকার দক্ষিণ এশীয় মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কর্মচারী, সাধারণ ক্রেতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ এলাকায় কেনাকাটা, ভ্রমণ ও আড্ডা দিতে আসা দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

অনেকেই মনে করছেন, নতুন অভিবাসীদের সচেতন হওয়ার জন্য এ ধরনের প্রতিবেদন ভূমিকা রাখবে।

আবার অনেকে মনে করছেন, পানের পিক ফেলার প্রবণতা জ্যাকসন হাইটস এলাকায় এখনো আছে। তবে এর মাত্রা এমন নয় যে, নিউইয়র্ক টাইমসে এ নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারে। তাই এটি একটি রিপোর্ট করার জন্যই রিপোর্ট।

এছাড়া ৭৩তম স্ট্রিট জুড়ে সিটির পক্ষ থেকে বর্তমানে সৌন্দর্য বর্ধণের যে কর্মসূচি চলছে, এর সঙ্গেও এ প্রতিবেদনটি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে মূলত জ্যাকসন হাইটসের ৭৩তম স্ট্রিট ও ৩৭তম এভিনিউয়ের কর্ণারে অবস্থিত পাকিস্তানি মালিকানাধীন রেস্তোরা ‘কাবাব কিং’র ভেতরে পাকিস্তানি ইমিগ্রান্ট মোহাম্মদ ইউসুফের পানের দোকান ‘শান এ পান দরবার’কে ঘিরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ ইউসুফ নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তার দোকানের পান খাওয়ার জন্য নিউইয়র্কের বিভিন্ন সিটি থেকে শুধু দক্ষিণ এশীয় নয়, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ক্রেতারা ভীড় করেন।

তিনি প্রতিদিন গড়ে ২শ’ ক্রেতার কাছে পান বিক্রি করেন, যার সংখ্যা উইক-এন্ডের দিনগুলোতে দ্বিগুণ হয়ে থাকে এবং ৯৫ শতাংশ ক্রেতাই পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অভিবাসী। প্রতিবেদনে মোহাম্মদ ইউসুফকে বাংলাদেশি নেটিভ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তার দোকান থেকে পান খেয়ে ক্রেতারা রাস্তাঘাটে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নোংরা করার যে অভিযোগ ওঠেছে তা অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদকরে সঙ্গে ইউসুফের কোনো কথাই হয়নি। প্রতিবেদক কথা বলেছেন দোকানের এক কর্মচারীর সঙ্গে।

তিনি জানান, তিনি নিজে পাকিস্তানি। আমেরিকান, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ঠিকমতো না জেনেই তাকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করেছেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি বলেন, “নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকায় এ ধরনের প্রতিবেদন দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির জন্য বিব্রতকর। তবে আমাদের নিজেদেরও আরো বেশি নাগরিক দায়িত্ব জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। আমরা নতুন ইমিগ্রেন্টদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য ই-মেইলের মাধ্যমে শিষগগিরই একটি ইনফরমেটিভ ক্যাম্পেইন শুরু করবো।”

নিউইয়র্কে বাংলা মিডিয়ার বেশ কয়েজন সংবাদকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা জানান, সচেতন সমাজ ও সুন্দর অভিবাস গড়ে তোলার মানসে বাংলা মিডিয়াগুলো এ সব বিষয়ে ইতিপূর্বে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে তারা মনে করেন, এসব বিষয়ে লেখালেখির জন্য মূলধারার কমিউনিটি সংবাদপত্রগুলোই যথেষ্ট।

অন্যদিকে জ্যাকসন হাইটসের ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানি আমেরিকান ব্যবসায়ীরা রাস্তায় পানের পিক বা থুতু না ফেলা বিষয়ে নতুন ইমিগ্র্যান্টদের সচেতন করা, সিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব স্থানে প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড টানানো এবং এ বিষয়ে বর্তমান প্রচলিত আইন অমান্যকারীদের ২শ’ ডলার জরিমানার বিষয়গুলো আরো শক্তভাবে প্রয়োগ করার ওপর জোর দেন।

এ বিষয়ে ‘ইনডিয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব জ্যাকসন হাইটস’ এর সভাপতি শিবচরণ দাশ জানান, তার সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ নিউইয়র্কে বুধবার জ্যাকসন হাইটসের ‘ডাইনিং প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় তারা এ এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এ বৈঠকে সিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধি ছাড়াও কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার ক্রিস্টিন কুইন উপস্থিত থাকবেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বাঙালিদের দ্বারা পরিচালিত এনজিও ‘ড্রাম’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মনামী মৌলিক বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন একদিকে যেমন বিব্রতকর, তেমনি অন্যদিকে কমিউনিটির জাগরণের জন্যও সহায়ক।

কিন্তু পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয়রা অনেক ভালো ভালো কাজ করছেন।

কাউসার মুমিন: সদস্য, ইউনাইটেড নেশন্স করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, জাতিসংঘ সদর দফতর, নিউইয়র্ক

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান