চট্টগ্রাম: শিল্প কারখানা স্থাপনের নামে সরকারি প্লট ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করায় দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় ফাতেমা আক্তার নামে এক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কারাগারে পাঠানোর কথা শুনে আদালত কক্ষেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান ওই নারী।
চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম এ বি এম নিজামুল হক সোমবার ওই ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ওই আদালতে কর্তব্যরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. শাহআলম বাংলানিউজকে বলেন, “আদালত আদেশ ঘোষণার পর ওই নারী কাঁদতে থাকেন। এরপর বিচারক এজলাস ত্যাগের পর তার ছেলে যখন তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। আমরা সেবাশুশ্রুষা করে মোটামুটি সুস্থ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।”
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় চল্লিশোর্ধ নারী ফাতেমা আক্তারকে আদালত কক্ষের পেছন দিকে একটি বেঞ্চের উপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকজন নারী কনস্টেবল তাকে ঘিরে বাতাস করছেন এবং মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছেন।
এর কিছুক্ষণ পর তাকে কয়েকজন নারী কনস্টেবল মিলে ধরাধরি করে নীচে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম আদালতের দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌসুলি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম মাহমুদ বাংলানিউজকে জানান, ১৯৮৬ সালের ২৫ জুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্লট বরাদ্দ পান নগরীর টেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা জনৈক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার।
১৯৮৭ সালের ২৭ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতিরেকে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আতিকুল ইসলাম ওই প্লটে দোকানপাট নির্মাণের অনুমতি দেন। এর প্রেক্ষিতে ফাতেমা আক্তার ওই প্লটে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেন।
ইজারার শর্ত ভঙ্গ করায় ১৯৯২ সালের ৪ মে মন্ত্রণালয় ইজারার চুক্তি বাতিল করে। ২০০৬ সালের ১৬ মে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লটটি জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও প্লট ফেরত দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেন ওই ব্যবসায়ী।
এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ব্যতিরেকে ফাতেমা আক্তারকে প্লটে দোকানপাট নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
তদন্তে ফাতেমা আক্তার ও আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক কোটি ১৫ লক্ষ ৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর দু’জনকে আসামি করে ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর কোতয়ালী থানায় দ-বিধির ৪০৯, ৫১১ ও ১০৯ ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
অ্যাডভাকেট মাহমুদুল হক জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আতিকুল ইসলাম পলাতক আছেন। ২০১২ সালের ৫ জুন ফাতেমা আক্তার হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন পান।
জামিনের মেয়াদ শেষের একদিন আগে রোববার ফাতেমা আক্তার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত আজ (সোমবার) এ বিষয়ে শুনানি শেষে ফাতেমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬ ২৯ ঘন্টা, জুলাই ১৬ ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর