 |
| ছবিঃ রুবেল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
আশুলিয়া থেকে: সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পর বুধবার দুপুরের দিকে আশুলিয়া এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এসেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে গেছে। ওই এলাকার সড়কগুলোতে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ তৃতীয় দিনে গড়ালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মাইকিং করা হয়। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের জানানো হয়, তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন। তিনি আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করবেন। আপনারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়তা করুন।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার পর আশুলিয়ার মোড়ে মোড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এ মাইকিং করা হয়।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এ আশ্বাসের কথা ঘোষণার পরও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শ্রমিকরা ফিরে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
এদিকে, ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবহিত আছেন। বুধবার সকালে ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সবাইকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বসবেন বলে জানিয়েছেন।”
বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো সাভারের আশুলিয়ায় বিভিন্ন কারখানার পোশাকশ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বুধবার সকালে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উত্তরবঙ্গগামী ও উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যানবাহন উভয় পাশে আটকে পড়ে। আশুলিয়াবাজার ও বাইপাইল মোড়ে শত শত বাস-ট্রাক আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
রাস্তায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। অলিগলিতে গিয়ে শ্রমিকরা আশ্রয় নেয়। গলি থেকেই পুলিশের ওপর ঢিল ছুড়ে মারেন তারা। থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে জামগড়া এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সোমবার ও মঙ্গলবারের দুইদিনের শ্রমিক বিক্ষোভে আশুলিয়ার প্রায় ২০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড কারখানার প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে এসে পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন।
এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে নারী শ্রমিকসহ প্রায় ৩০ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— আবেদা, জহুরুল, নাদিম, নয়ন, পলাশ, রবিউল, সাইফুল, সালাম, সঞ্জয়, সিদ্দিক, তানহা, সাইদুল, মাজেদুল, আদম, সুলতান, হাশেম, বিল্লাল, মুরাদ, আকবর, মরজিনা, বদরুল প্রমুখ।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
কারখানার সুপারভাইজার তানহা বাংলানিউজকে জানান, রাত আটটার দিকে তারা কাজে যোগ দিতে এলে হঠাৎ কারখানায় অজ্ঞাত লোকজন ঢিল ছুড়ে মারে। এতে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে ২০ মিনিট পর পুলিশ এসে শ্রমিকদের ভেতরে যেতে বলে। আতঙ্কিত শ্রমিকরা ভেতরে না চাইলে পুলিশ তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।
আহতদের মধ্যে অপারেটর সঞ্জয় বাংলানিউজকে জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে কারখানায় কাজে যোগ দিতে এলে পুলিশ হঠাৎ তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে তার বুকের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বাংলদেশ সময়: ১২০০ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অশোকেশ রায় ও আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর