 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সিলেট: এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পোড়ানোর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তিনশতাধিক আবাসহারা শিক্ষার্থীর বিকল্প আবাসন তৈরি করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার জন্য খোদ শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে।
এমনকি শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দাবি, দোষীদের শাস্তি ও বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার কোনটিই পুরণ করতে পারেনি কলেজ প্রশাসন।
৮ জুলাই ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের জের ধরে পোড়ানো হয় এমসি করলজ ছাত্রাবাস। কলেজ প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে এজন্য অগ্নিসংযোগকারী হিসেবে বহিরাগত ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ছাত্রাবাসে তিনশতাধিক ছাত্র তাদের সিট হারায়। বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় এসব ছাত্রের বেশিরভাগই এখনও ক্লাসে ফেরেনি।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রাবাসের তত্বাবধায়ক জামাল উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেসব ছাত্র ছাত্রাবাসে থাকতো তারা নিয়মিত ক্লাস করতো। এখন এসব ছাত্র ক্লাসে না আসায় বেশিরভাগ দিনই ছাত্রসংকটের কারণে ক্লাস হচ্ছে না।’
কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র মাহবুব আলম বাংলানিউজকে জানান, ‘উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে থাকতো। অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নোট, সংগ্রহ করা শিটসহ এসএসসির সার্টিফিকেট পুড়ে যাওয়ায় অবর্ণনীয় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন তারা।’
মাহবুব আরো জানান, ‘বেশিরভাগ ছাত্রের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না থাকায় এখনও বইপত্র যোগাড় করতে পারেনি। এছাড়া পরণের কাপড় ছাড়া বাকি সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটেও পড়েছেন তারা।’
বিষয়টি নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ধীরেশ চন্দ্র সরকার বাংলানিউজকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার ওপরে।
তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি সঠিকভাবে নিরুপণ করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ক্ষতি টাকার অংকে অনেক হবে নিশ্চয়ই। কেননা শিক্ষার্থীদের সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কলেজ অধ্যক্ষ আরো বলেন, ছাত্রবাস পুণনির্মাণে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি শিক্ষামন্ত্রী দেখে যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণ শুরু করতে নির্দেশও দিয়েছেন। নির্মাণ কাজ শুরু করতে কয়েকজন প্রকৌশলী ছাত্রাবাস এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজে এসে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে যাবেন বলেও জানান কলেজ অধ্যক্ষ।
দেশের অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ-অর্থনীতিবিদ উপহার দিয়েছিল যে এমসি কলেজ, এখন সেই ঐতিহ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগুনের ক্ষত নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৫১ দিন বন্ধ শেষে ২৯ আগস্ট থেকে কলেজ খুললেও অনার্সের কোনো বিভাগেই পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়নি। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফিরছে না ক্লাসে।
এ ঘটনায় কলেজ প্রশসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বহিরাগত ছাত্রলীগকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও সুনিদিষ্ট কারো নাম বলা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি পুড়ে যাওয়া বই -খাতার ক্ষতিপূরণ দিয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি ছাত্রাবাস খুলে দিতে।
এ নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি ছাড়াও ৮ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি পালন করে তারা।
জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে ছাত্র সমাবেশ করবে। আর এ সমাবেশ থেকে সর্বস্তরের জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্র ধর্মঘট, অবরোধ ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১০২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
এসএ/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর