 |
চট্টগ্রাম: দীর্ঘ দুই বছর ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি মেরামত না করায় ৭ বছরের শিশু তামান্না ‘ভাঙা সড়ক জীবন অচল’ লিখিত ফেস্টুনটি গলায় ঝুলিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবাদ জানাতে।
তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ হাজী বখতিয়ার সওদাগর। যোগ দিয়েছেন এলাকার শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ। ঘরের কাজ ফেলে রেখে প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন গৃহিণীরাও।
বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত যে সড়কটি মেরামতের দাবিতে সবাই একত্রিত হয়েছেন সেটি কেবল চট্টগ্রাম নগরীর নয়, উত্তর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পর্যটননগরী কক্সবাজার- বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগেরও অন্যতম মাধ্যম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে প্রধান এ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ সড়কের এমনই বেহালদশা যে, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে অনেক অংশ দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার জানালেও সংস্কার করা হয়নি সড়কটি। তাই প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার সকালে এ বেহাল সড়কের চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুর পাড় অংশে মানববন্ধন ও ধান রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে এলাকাবাসী।
বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট রাস্তা মেরামতের দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে যাত্রী সেবা পরিবহন মালিক সমিতি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ২ বছর ধরে সড়কের যে অবস্থা তা দেখে মনে হচ্ছে, এ সড়কের কোনো মালিক নেই।
সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে গাড়ি চলতে পারছে না। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। এসব কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে আছে এ সড়কে।
তিনি জানান, এ সড়কে যাত্রী সেবা পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিদিন ২শ’ গাড়ি চলাচল করলেও বর্তমানে ৭০টির বেশি চলতে পারে না। প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আর সেগুলো মেরামত করতে হচ্ছে।
মৌলভী পুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা হাজী বখতিয়ার সওদাগর বলেন, ‘‘বাসা থেকে ১শ’ গজ দূরত্বের মসজিদেও সময় মতো পৌঁছাতে পারি না। রাস্তার বেহালদশার কারণে অনেক সময় গাড়িতেই রোগী মারা যাচ্ছেন।’’
‘‘কয়েকদিন আগেও একজন রোগী ওই এলাকায় যানজটে পড়ে গাড়িতেই মারা গেছেন।’’
স্কুল শিক্ষার্থী তামান্নার চাচা আবদুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘বাচ্চা শিশুদের নিয়ে সময় মতো স্কুলে যেতে পারি না। অধিকাংশ সময় হেঁটে যেতে হয়।’’
সিডিএ’র বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বেহালদশার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে(সিডিএ) দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে সড়কের বেহালদশার কথা সিডিএ’র কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে একাধিকবার। কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিষয়টি সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু সড়কটি মেরামতের জন্য কোনো ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক মেরামতের নামে বিভিন্ন অংশে খুঁড়ে রেখেছে সিডিএ। সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা দুই বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হলেও সিডিএ’র মেরামত কাজ আর শেষ হয় না।
এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম বলেন, এলাকার মানুষের দূর্ভোগের বিষয়টি সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে জানানো হলে তিনি অর্থ বরাদ্দ নেই বলে জানান। তারা অভিযোগ করে বলেন, সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বাড়ি মোহরায়। তিনিও প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। মানুষের চরম দুর্ভোগ নিজে প্রত্যক্ষ করেও তিনি জেগে ঘুমাচ্ছেন।
যাত্রী সেবা পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, এ সড়কে গাড়ি চালানোর অবস্থা নেই।
তিনি বলেন, নগরীর সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা দেখে মনে হয় না যে সিডিএ নামের প্রতিষ্ঠানের কোনো চেয়ারম্যান আছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘন্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
এমইউ/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর