 |
দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১২ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ১৮ জুলাই বুধবার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ পরীক্ষায় অনেকেই হয়তো আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি। কিন্তু এতে তাদের ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। যে কোনো কাজে ভালো করার সুযোগ তারা ভবিষ্যতে আরও পাবে। এক্ষেত্রে কৃতকার্য এর্ব বিশেষ করে অকৃতকার্যদের মনে রাখতে হবে-- জীবন সুন্দর করার জন্য লেখাপড়া দরকার, কিন্তু লেখাপড়ার জন্য জীবন নয়।
তাই কোনো একটি ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচি না। বাঁচি আশপাশের সবাইকে নিয়ে। প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে নিয়ে পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
আবার পরিবার, সমাজ, দেশ ও পৃথিবীর জন্যও আমাদের অনেক কিছু করার আছে।
তাই একবার না পারলে পরবর্তীকালে আবার চেষ্টা করা যেতে পারে। কোনোভাবেই একটি ব্যর্থতার জন্য সম্ভাবনাময় পুরো একটি জীবন শেষ করা উচিৎ নয়। আর তাই আত্মহত্যা বা যে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে। ইসলাম ও অন্যান্য প্রধান ধর্মমতেও আত্মহত্যা মহাপাপ।
ক্ষণিকের উত্তেজনায় চিরস্থায়ী লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের যাত্রী হওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এ ক্ষণস্থায়ী জগত সংসারে দুঃখ ও বিপদাপদ তো আসবেই। এসব তো আমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আত্মহত্যার পথে না গিয়ে আমাদের উচিত সমস্যাটির উৎসমূল নিয়ে ভাবা এবং এর সমাধানের জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।
জীবনের প্রতি যার কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই, নেই সামান্য ধৈর্য ও সাহসী মনোবল, এমন ভীরু কাপুরুষ gvbwmKZvi e¨w³ivB কেবল বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতেই কি সমস্যার সমাধান হচ্ছে? বরং এটা তো আসলে কড়াই থেকে উনুনে ঝাঁপ দেওয়অর সামিল। আসল দুঃখের এইতো শুরু, তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে!
আরেকটি বিষয় অভিভাবকদের খেয়াল রাখা উচিৎ। তা হলো, পরীক্ষা বা যে কোনো ব্যর্থতার জন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের তিরস্কার না করা। তাদের সফলতায় যেমন একসঙ্গে আনন্দ করা হয়, তেমনি ব্যর্থতায় সমব্যথী হয়ে তাদের দুtখ ভাগাভাগি করে নেওয়া উচিৎ, তাদের পাশে থাকা উচিৎ।
আমার বা আপনার বলতে এ পৃথিবীতে কিছুই নেই। আমাদের অস্তিত্ব থেকে শুরু করে এ মহাবিশ্ব এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে সবই পরম শক্তিমান স্রষ্টার একচ্ছত্র মালিকানাধীন। তিনি তার ইচ্ছা মতো সৃষ্টি করেন, সময় হলে তার হুকুমেই সব আবার শূন্যে মিলিয়ে যায়।
আমাদের বেঁচে থাকা তাই মহান আল্লাহর সামান্য হুকুমের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আমাদের থাকা না থাকা সবই তার ইশারার অপেক্ষমান।
এসব কারণেই আত্মহত্যা ইসলামী শরীয়তে সর্বসম্মতভাবে হারাম এবং অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য।
আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৯৫ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা। অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন,ÔÔতোমরা নিজেদের হত্যা করো না। আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য বড় দয়াবান। (সূরা নিসা-২৯)
বুখারী শরীফের ৫৪৪২ ও মুসলিম শরীফের ১০৯ নং হাদীসে রাসুল (সা.) বলেছেন, পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে যদি কেউ আত্মহত্যা করে তবে চিরকাল সে জাহান্নামে এভাবেই লাফ দিয়ে দিয়ে জ্বলতে থাকবে। যদি কেউ বিষপান করে আত্মহত্যা করে তবে জাহান্নামেও সে চিরকাল বিষপান করতে থাকবে..।
এমনিভাবে এর পরবর্তী হাদীসে তিনি বলেছেন, যে এ পৃথিবীতে কোনো বস্তুদিয়ে নিজেকে আঘাত করে আত্মহত্যা করে সে জাহান্নামেও অনুরূপ কাজ করতে থাকবে। সুতরাং তার শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে গেল। জাহান্নামের আগুন তো রয়েছেই, এর সঙ্গে সে যেভাবে আত্মহত্যা করেছে তা সে করতেই থাকবে জ্বলন্ত অবস্থায়।
বুখারী শরীফের ৩২৭৬ ও মুসলিম শরীফের ১১৩ নং হাদীসে পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করে রাসুল (সা.) সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছেন, তাদের এক লোক দুঃখ ও বিপদে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলল, তারপর রক্ত বের হতে হতে সে মরে গেল। আল্লাহ পাক তখন বলে উঠলেন, আহা! আমার বান্দা আমার চেয়েও বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেলল। তার জন্য তো জান্নাত হারাম হয়ে গেল|
তাই আসুন আমরা নিজেদের প্রতি যত্নবান হই। আর আত্মহত্যা বা জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক যে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকি।
লেখক- - শিক্ষার্থী, দাওয়া অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন, কাতার ইউনিভার্সিটি
tamimraihan@yahoo.com
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
bn24.islam@gmail.com