 |
ঢাকা: লিবিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দাবি করেছে মঙ্গলবার রাতে বেনগাজীর মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। এ হামলার পেছনে কোনো অভিজ্ঞ ষড়যন্ত্রকারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য,যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রে ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে হেয় করার খবর প্রকাশিত হলে ক্ষুদ্ধ জনতা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজী নগরীর মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কনস্যুলেট ভবনে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও অপর তিন দূতাবাস কর্মী নিহত হন।
এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থা ব্যক্ত করতে গিয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ আল মাগারিফ বলেন, “আমি মনে করি এটার পেছনে আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা আছে।”
মঙ্গলবার রাতে ওই ঘটনার পর শুক্রবার প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
অবশ্য হামলার পরপরই দেওয়া বিবৃতিতে বেনগাজীর হামলার পেছনে অপসারিত স্বৈরশাসক গাদ্দাফি অনুগতদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন লিবিয়ার সহকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ব্যাপারে মাগারিফকে প্রশ্ন করা হলে এ ঘটনার সঙ্গে গাদ্দাফি অনুগতদের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন লিবিয়ায় আল কায়েদার উপস্থিতি খুবই নগন্য হলেও বর্তমানে লিবিয়ার ‘ক্ষমতাশূন্য’ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।
এদিকে লিবীয় কর্তৃপক্ষ বেনগাজীর সহিংসতার কারণ উদঘাটনে শুক্রবার থেকে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে লিবীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিহত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্স এবং দূতাবাস কর্র্মী গ্লেন দোহারটি, টাইরোন এবং সিন স্মিথের মৃতদেহ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে।
মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুস বিমান ঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শোক প্রকাশ করে বলেন ‘আমেরিকার মৌলিক মূল্যবোধ’ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মারা গেছেন তারা।
‘তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না’ বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমাদের থেকে তাদের যারা ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের আমরা বিচারের সম্মুখীন করবো।”
বাংলাদেশ সময়:১৬৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর