৬ আষাঢ় ১৪২০, বৃহস্পতিবার জুন ২০, ২০১৩ ১২:৫৯ এএম BDST banglanew24
18 Sep 2012   03:32:53 PM   Tuesday BdST
E-mail this

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটছে বিএসআরএম


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটছে বিএসআরএম
ছবি: উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামভিত্তিক বৃহৎ শিল্পগ্রুপ বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)’র বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ উপেক্ষা করে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে অভিযোগের ওপর শুনানি পেছানো হচ্ছে বারবার।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের মস্তাননগরে বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজ পাহাড় ধবংস করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিএসআরএম। বিষয়টি নজরে এলে সম্প্রতি বিএসআরএম’র কর্মকর্তাদের তলব করে পরিবেশ অধিদপ্তর। নোটিশ পাঠিয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখাও চেয়েছে অধিদপ্তর। কিন্তু সূত্র জানায়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিএসআরএম প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্ণা দিয়ে চলছে। আর নান অজুহাতে তারা অভিযোগের শুনানি পিছিয়ে দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, “ফিল্ড ভিজিটে গিয়ে আমরা লক্ষ্য করেছি যে তারা পাহাড় কাটছে।”

তবে বিএসআরএম পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা নোটিশ দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে তাদের আসতে বলেছি। কাগজপত্র যাচাই করে দেখে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের মস্তাননগর এলাকায় প্রায় ৫০ একর এলাকা জুড়ে স্টিল মিল এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বিএসআরএম। এর মধ্যে একটি বড় অংশ রয়েছে পাহাড়ি ভুমি। যা কেটে সমতল করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে এই কারখানা স্থাপনের জন্য মাটি ভরাটসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করে বিএসআরএম। এজন্য ২০০৯ সালের ৪ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থানগত ছাড়পত্রও নেয় তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, অবস্থানগত ছাড়পত্র নেয়ার পর বিএসআরএম শর্ত লঙ্ঘন করে প্রস্তাবিত জায়গায় টিলা ও পাহাড় কেটে পুরো সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া অবস্থানগত ছাড়পত্রে পাহাড়ের আকৃতি ঠিক রেখে শিল্প স্থাপনের কথা বলা হয়েছিলো।  

বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত ৫০ একর জায়গার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল টিলা ও পাহাড়ি এলাকা। এসব এলাকা সমতল ভূমিতে পরিণত করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজ গাছগাছালিও ধবংস করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত. ২০১০ সালে সংশোধিত পরিবেশ আইনে পাহাড়ের পাশাপাশি টিলা কাটা এবং জলাশয় ভরাট করা যাবেনা বলে উল্লেখ রয়েছে। বিএসআরএম এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্টত: পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত চিটাগং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের স্থান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তারা স্টিল মিলের প্রস্তাবিত জায়গায় পাহাড় কাটার বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।

বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের নোটিশ পাঠায়।

মঙ্গলবার বিএসআরএম’র বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জাফর আলম ছুটিতে থাকায় শুনানি হয়নি।

এর আগেও এক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়েছিল। বিএসআরএম’ প্রভাবেই বারবার তাদের বিরুদ্ধে শুনানির তারিখও পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একইসঙ্গে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠার পর থেকে বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বিএসআরএম’র কর্পোরেট অফিসে ফোন করা হলে অভিযোগের বিষয়টি শুনে এক কর্মকর্তা তাদের স্টেট অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগে যোগযোগের পরামর্শ দেন। স্টেট অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগে ফোন করা হলে এক কর্মকর্তা মিরসরাইয়ে প্রজেক্ট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন।

মিরসরাইয়ে প্রজেক্ট অফিসে ফোন করা হলে প্রজেক্ট কনস্ট্রাকশন্স ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করি। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য জানতে হলে কর্পোরেট অফিসে যোগাযোগ করুন।’

পরে ফের কর্পোরেট অফিসে ফোন করলে ``এবিষয়ে কথা বলা হবে না`` বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৫০৭ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২ 
আরডিজি/এমএমকে; সম্পাদনা: জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান