 |
ঢাকা: আধুনিক অলিম্পিক যাত্রা শুরু করার পর বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে কোনো না কোনো দেশের আধিপত্য রয়েছে। প্রতিটি অলিম্পিকে বিভিন্ন দেশ বিশেষ কোনো ডিসিপ্লিনে ভালো ফলাফল করে আসছে। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে কোন ডিসিপ্লিনে কারা এগিয়ে সেটা বিশ্লেষণ করা হলো:
ফুটবল (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ স্পেন)
১৯২০ এর দশকে আধুনিক অলিম্পিকের প্রবর্তনের পর টানা দুইবার ফুটবলে অলিম্পিক শিরোপা জেতে উরুগুয়ে। অন্যদিকে পুরুষদের ফুটবলে তিনবার অলিম্পিক শিরোপা ঘরে তুলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফলতার দাবিদার হাঙ্গেরি ও গ্রেট ব্রিটেন। দুইবার করে শিরোপা জিতেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও গ্রেট ব্রিটেন। অন্যদিকে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতলেও লন্ডন অলিম্পিকের বাছাইপর্বেই বাদ পড়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৯৬০ সালের পর ফের অলিম্পিকে বৃটিশ ফুটবল দল। সবমিলিয়ে লন্ডন অলিম্পিকে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তাদের শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে রয়েছে ব্রাজিলও। অন্যদিকে নারী ফুটবলে সবার চেয়ে এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিকে নারী ফুটবলের প্রচলন হওয়ার পর চারটি স্বর্ণপদকের তিনটিই জিতেছে মার্কিন নারীরা।
জিমন্যাস্টিকস (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ চীন)
জিমন্যাস্টিকসে ঐতিহ্যবাহী শক্তি রোমানিয়া। তবে ২০০৮ সালে সেটা ভেঙ্গে দিয়েছে চীনা প্রতিযোগীরা। ১৯৮০ সাল থেকেই অধিকাংশ অলিম্পিকেই জিমন্যাস্টিকস ডিসিপ্লিনে রোমানিয়ান প্রতিযোগীরা মঞ্চ মাতিয়েছেন। এর মধ্যে মন্ট্রিল ও মস্কো অলিম্পিকে নাদিয়া কোমানিচির চোখধাঁধানো পারফরমেন্স তো সবারই চোখে ভাসে। প্রথমবারের মতো দশে দশ পয়েন্ট আদায় করেছিলেন এই রোমানিয়ান জিমন্যাস্ট। ২০০৪ সালের অ্যাথেন্স অলিম্পিকে সর্বোচ্চ পদকও পেয়েছেন রোমানিয়ান প্রতিযোগীরা।
২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিকসে প্রবল উত্থান ঘটে চীনের। অ্যাথেন্স অলিম্পিকে মাত্র একটি স্বর্ণপদক জয়ী চীনা প্রতিযোগীরা বেইজিং অলিম্পিকে মোট ১১টি স্বর্র্ণপদক জয় করে জিমন্যাস্টিকস দুনিয়ায় সাড়া ফেলে। স্বাগতিক প্রতিযোগীরা এই ডিসিপ্লিনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিযোগীরা পেয়েছিলো দুটি করে স্বর্ণপদক। তবে চীনাদের উত্থান যে আকস্মিক ছিলো না সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে ২০১১ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। আর্টিস্টিকস জিমন্যাস্টিকসে চারটি স্বর্ণপদক জিতে জিমন্যাস্টিকসে নিজেদের আরেকবার সেরা প্রমাণ করে চীন। তবে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে রাশিয়ার প্রাধান্য থাকলেও এই ইভেন্টে উঠে আসছে কানাডাও।
হ্যান্ডবল (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ ফ্রান্স ও নরওয়ে)
নারীদের বিভাগে অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সবগুলোতে বর্তমান সেরা নরওয়ে। লন্ডন অলিম্পিকেও এই বিভাগে নিশ্চিতভাবেই শিরোপার দাবিদার নরওয়ে।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপে হ্যান্ডবল দারুণ জনপ্রিয়। বেইজিং অলিম্পিকে নারীদের বিভাগে নরওয়ে স্বর্ণ জয়ের আগে টানা তিনবার স্বর্ণপদক জিতেছে আরেক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ ডেনমার্ক। অন্যদিকে পুরুষ হ্যান্ডবলে বর্তমান বিশ্ব সেরা ফ্রান্স এবং লন্ডন অলিম্পিকেও পুরুষ বিভাগে পরিষ্কার ফেভারিট তারা।
হকি (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস)
অলিম্পিকে অনেক আসরেই ফিল্ড হকিতে ভারতীয় দলের জন্য স্বর্ণপদক ছিলো বাঁধাধরা বিষয়। কিন্তু বর্তমান হকি বা টার্ফের প্রবর্তনের পর এই ডিসিপ্লিনে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকের পর হকির প্রতিটি স্বর্ণপদক জিতেছে ওই তিন দেশ। তবে নারী হকিতে অন্যদের কাছে সমীহের দাবিদার আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে লন্ডনেও শিরোপার দাবিদার তারাই।
জুডো (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ জাপান)
জুডোতে জাপানীরা বিশ্ব সেরা। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে সিউল অলিম্পিকেই কেবল জাপানী জুডো দল শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। সেবার স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া ২টি স্বর্ণ পদক জেতে। সিউলে জাপান একটি স্বর্ণপদক জয় করে কোরিয়ার কাছে হার মানে। জুডোতে এ পর্যন্ত ৩৫টি স্বর্ণপদক জিতেছে জাপান। অন্য কোনো ডিসিপ্লিনে এত সফলতা পায়নি এশিয়ার দেশটি। জুডোতে জাপানের পর সবচেয়ে সফল ফ্রান্স। যদিও অলিম্পিকে মাঝে মধ্যেই জ্বলে ওঠে কিউবা। অ্যাথেন্স ও সিডনীতে কিউবানরা ছয়টি স্বর্ণপদক জিতে নেয়। যদিও বেইজিংয়ে কোনো স্বর্ণপদক জিততে পারেনি তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য ডিসিপ্লিনের ন্যায় জুডোতেও চীনাদের উত্থান ঘটছে।
আধুনিক পেন্টাথলন (অন্যদের কাছে শক্ত প্রতিপক্ষ রাশিয়া)
পাঁচটি ইভেন্টের সমন্বয়ে (ফেন্সিং, সাঁতার, আরোহণ, দৌড় ও শ্যুটিং) পেন্টাথলন হয়। পুরুষদের পেন্টাথলনে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়াই এগিয়ে। দেশটির প্রতিযোগীরা সিডনী, অ্যাথেন্স ও বেইজিংয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে। শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালে কাজাখস্তানের কাছে পরাজিত হয় রাশিয়া। অন্যদিকে ২০০০ সালে সিডনীতে নারীদের বিভাগে পেন্টাথলনের প্রবর্তনের পর ব্রিটেন বিশ্বসেরা। নারী বিভাগে নয়টি স্বর্ণপদকের চারটিতেই জিতেছে বৃটিশ নারীরা। যদিও পেন্টাথলন অন্যতম শক্তি হাঙ্গেরি। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক বয়কটের পর কেবলমাত্র ২০০৮ সালেই এই ডিসিপ্লিনে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে হাঙ্গেরির প্রতিযোগীদের।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৯, ২০১২
এএইচবি
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর/সেকান্দার আলী, বিভাগীয় প্রধান স্পোর্টস