১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ৯:৩৩ এএম BDST banglanew24
18 Aug 2012   02:24:39 PM   Saturday BdST
E-mail this

দেশজুড়ে শুরু ঈদের আনন্দ


আদিত্য আরাফাত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
দেশজুড়ে শুরু ঈদের আনন্দ

ঢাকা: ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’  নজরুলের সেই আনন্দের শিহরণ জাগানিয়া কালজয়ী এ গান ধনী-গরিব, শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবক  প্রৌঢ়-বৃদ্ধ—সবার মনেই যেনো আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই শনিবার সন্ধ্যা থেকে অনেকের মুখেই এ গানের সূর শোনা যাবে। রেডিও টেলিভিশনে বাজবে আনন্দের এ সুর-গান। মিলনের আকুতি,

ঈদের খুশির বার্তা এখন সবার মনে মোহন বাঁশির মতো বাজছে।

বহু বছর আগে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এ কথাই তার গানে বলেছেন, ‘আজ ভুলে যা সব হানাহানি, হাত মেলা হাতে।’

ধনী-গরিব, ছোট-বড়, শত্রু-মিত্র সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায় ঈদ। এদিক থেকে ঈদ শুধু আনন্দের বার্তাই বহন করে না, সবাইকে সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। শনিবার অথবা রোববার সন্ধ্যায় আকাশে এক ফালি চাঁদ উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে ঈদের আনন্দ। ঘরে ঘরে বইবে খুশির বন্যা। পথে ঘাটে বাজারে অলিতে গলিতে নামবে উৎসবমুখর মানুষের ঢল।

ঈদের আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত হতে চান না। তাই কষ্ট হলেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদে শামিল হতে ইতিমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ। গত একমাস ঈদের প্রস্তুতি নিতে চলেছে কেনাকাটা। যে যার সাধ্যমতো কেনাকাটাও সেরে নিয়েছেন। এখন অপেক্ষা শুধু ঈদের জন্য।

শনিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলেই রোববার সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। দীর্ঘ ১১ মাস অপেক্ষা আর এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের প্রধান এ ধর্মীয় আনন্দ-উৎসবকে বরণ করে নিতে সারা দেশেই এখন চলছে সাজ সাজ রব। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান শেষে অনাবিল খুশির সওগাত নিয়ে ঈদ সমাগত।

রোববার ঈদ হচ্ছে ধরে নিয়ে সবাই শনিবারের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখবেন। রোববার ঈদ না হলে হবে সোমবার।

ঈদ মিলনের আগে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, পথে পথে নানা বিড়ম্বনা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের মানুষ এখন ঈদ আনন্দ অনুভব করছেন।

ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের জন্য শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক। ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাজাহান মিয়া এতে সভাপতিত্ব করবেন।

রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান মসজিদ এবং ঈদগাহে ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ মানুষ শেষ করেছেন ঈদের মূল কেনাকাটা। পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের জন্যও সাধ্যমত কেনা হয়েছে নতুন পোশাক। ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নের জন্য চাল, তেল, মসলা, মুরগি, মাংস
আর ঈদ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উপাদান সেমাই কেনার কাজও সারা। ‘চানরাত’ পর্যন্ত মার্কেটগুলোয় চলবে বিক্রি।

ঈদ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর সেজে উঠেছে মনোরম সাজে। বিভিন্ন সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে। এছাড়া প্রধান সড়কগুলো ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ও কালেমাখচিত পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারগুলোতে
উন্নতমানের খাবার পরিবেশনসহ বিশেষ আয়োজন রাখা হবে।

ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বিভিন্ন চ্যানেলে পরিবেশিত ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন চ্যানেল ঈদের আগের রাত থেকে শুরু করে ৫দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজন করা হবে।

১ আসস্ট সচিবালয়ে ঈদ-উল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়া এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মহিলাদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিবিদদের নামাজের জন্য আলাদা জায়গা সংরক্ষণ করা হবে।

শাহজাহান মিয়া বলেন, ঈদের দিন বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দু:স্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ঢাকা সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে

সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১১টায় মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশন রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪টি করে মসজিদ, মাঠ ও ঈদগাহে মোট ৩৬০টি ঈদের জামাতের আয়োজন করেছে।

সারা দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৬ ঘন্টা, আগস্ট ১৮, ২০১২
এডিএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান