মৌলভীবাজার: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্নস্থানের মতো মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের নামাজ না পড়তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে নিষেধ করা হয়েছে।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ-উল ফিতরের নামাজ পড়া যাবে কিনা, সে বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঈদ উদযাপন করতে হবে।
এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি) তার সার্কিট হাউস রোডের বাসায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
তাই, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তার (আব্দুল মাওফিক চৌধুরী) ঈদ উদযাপন প্রচেষ্টা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গঠনের মূল লক্ষ্যের পরিপন্থি এবং এর ফলে জেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে চিঠিতে অবশ্য গত ১১ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা ও আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরীর (পীর সাহেব উজান্ডি) উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১১ আগস্টের সভায় ধর্মীয় নেতাদের অনুরোধে নির্দেশনা চেয়ে সরকারের তথা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদ উদযাপন করা থেকে বিরত থাকা এবং লিফলেট বিতরণ কিংবা মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে (আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী) অনুরোধ জানিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কিন্তু সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও ওই দিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে সভায় তার (মাওফিক) বাসায় নামাজ না পড়ার বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছুই পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি) বাংলানিউজকে অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্নস্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে এবং মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছে। জেলা প্রশাসন থেকে চিঠিসহ বিভিন্ন পন্থায় তার বাসায় ধর্মপালনে বাধা ও নামাজ না পড়তে নিষেধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা একটি পক্ষে কাজ করছেন। এটি দেশের নাগরিক হিসেবে আমার সাথে বিমাতাসূলভ ও আক্রোশমূলক ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি এবিষয়ে দেশের প্রচলিত আইনের শরণাপন্ন হবো।’
এদিকে, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার বিকেলে বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার বক্তব্য চিঠিতে উল্লেখ আছে। আমার কিছু বলার নেই।’
বাংলাদেশ সময়: ০১৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর