 |
ঢাকা: ভিয়েতনামে ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘এজেন্ট অরেঞ্জ’ পরিষ্কারে সহায়তার একটি প্রকল্প শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমাপ্তির পর এ-ই প্রথম এমন উদ্যোগ নিল মার্কিন প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় শহর দানাংয়ের বিমানবন্দরে এ কাজ শুরু করা হবে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় শত্রুর লুকানোর স্থান ধ্বংস করার জন্য চিরহরিৎ ঘন জঙ্গলে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী লাখ লাখ গ্যালন এজেন্ট অরেঞ্জ স্প্রে করে। এ বিশেষ রাসায়নিকটি স্প্রে করলে গাছের পাতা খুব দ্রুত ঝরে যায়।
সেই রাসায়নিকের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে ভিয়েতনামের মানুষ। ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছে, লাখ লাখ মানুষ এজেন্ট অরেঞ্জের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হয়েছে যার মধ্যে শিশুই রয়েছে দেড় লাখ। এদের বেশিরভাগই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ পরিষ্কার অভিযান উপলক্ষ্যে দানাং বিমানবন্দরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের সময় এ স্থানটিতে এজেন্ট অরেঞ্জ গুদামজাত করা হয়েছিল। আর তা ব্যবহার করা হতো তৎকালীন কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের গেরিয়া যোদ্ধা ভিয়েত কংয়ের গোপন আস্তানা ধ্বংসের জন্য।
ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, এজেন্ট অরেঞ্জ পরিষ্কার অভিযান প্রকল্পে তারা ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেবে। এ প্রকল্প পরিচালিত হবে দু’টি মার্কিন কোম্পানি ও ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায়।
দূতাবাস আরো জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় দূষিত মাটি এবং পলি খুঁড়ে তুলে জড়ো করা হবে। এরপর ওই ডাইঅক্সিন (এজেন্ট অরেঞ্জ) নষ্ট করার জন্য সেগুলো উচ্চতাপে পুড়ে ফেলা হবে।
দাতব্য সংস্থা ইউএসএইড’র ফ্রাঙ্ক পনোভান রেডিও অস্ট্রেলিয়াকে জানিয়েছেন, এ প্রকল্প চলবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তারা আশা করছেন, এতে করে ওই এলাকা শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং বসবাসের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ হয়ে উঠেবে।
প্রথম প্রকল্পে দানাং বিমানবন্দরে পরিষ্কার অভিযান চালানো হলেও এ রাসায়নিকের এমন অনেক গুদাম
ভিয়েতনামজুড়ে রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি বিমানবন্দরও রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর