৫ আষাঢ় ১৪২০, বুধবার জুন ১৯, ২০১৩ ৪:৪৫ এএম BDST banglanew24
27 Jun 2012   01:08:59 PM   Wednesday BdST
E-mail this

ভূমিধস বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৯


রমেন দাশগুপ্ত, নুপা আলম, আলাউদ্দিন শাহরিয়ার
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ভূমিধস বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৯
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধসসহ নানা দুর্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় মোট ৯৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ২২, বান্দরবানে ৩৮ ও কক্সবাজারে ৩৯ জন মারা গেছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া কক্সবাজারে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও প্রায় ১২ জন।

কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বজ্রপাতে নিহত ৩৯

পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা, পানিতে ডুবে ও বজ্রপাতে এ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছে আরও ১২ জন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুণর্বাসন শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাহাড় ধসে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সাতজন, কক্সবাজারে পাহাড় ধ্বসে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামু উপজেলায় মারা গেছেন ৪ জন, চকরিয়া উপজেলায় মারা গেছেন ৫ জন, পেকুয়ায় ২ জন, মহেশখালীতে ৩ জন ও উখিয়া উপজেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বজ্রপাতে মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ৩ জন, পেকুয়া উপজেলায় ১ জন ও মহেশখালীতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেয়াল চাপায় মারা গেছে ৩ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ২ জন ও মহেশখালীতে ১ জন। এছাড়া, পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ১ জন, রামুতে ৩ জন ও কুতুবদিয়ায় ২ জন মারা গেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিনে পাহাড় ধসে মহেশখালী উপজেলায় নিহত হন চারজন, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে একজন, চকরিয়া উপজেলায় একজন এবং পেকুয়া উপজেলায় মারা গেছে একজন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী বুধবার দুপুর আড়াইটায় ৩৮ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের কারণে জেলায় পাহাড় ধস, বজ্রপাত, বাড়ির দেয়াল চাপায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সোনাঘোনা পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। রাত ৩টার দিকে রামুর কাউয়ারকোপ ইউনিয়নের মধ্যম পাহাড়পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় পাহাড় ধ্বসে চকরিয়া উপজেলায় মারা গেছে ৫ জন, পেকুয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিনে মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পাহাড় ধসে মারা যান ৩ জন।

ওই দুই এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া, বজ্রপাতের ঘটনায় কুতুবদিয়া উপজেলায় বড়ঘোপ ইউনিয়নের লাল ফকিরপাড়ার খুকি আখতার (১৫) নামের এক কিশোরী নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে চকরিয়া উপজেলায় দুইজন, পেকুয়া উপজেলায় ১ জন ও মহেশখালীতে ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেও এদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার রাত ১২টায় বাড়ির দেয়াল চাপায় কক্সবাজার সদরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের দরগারপাড়া এলাকার আনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আনোয়ারা ওই এলাকার মোহাম্মদ ইসলাম স্ত্রী।

অপরদিকে, মঙ্গলবার রাতে রামু উপজেলার গর্জনীয়ার গর্জই খালে পারাপারের সময় নৌকা ডুবে ১২ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পর্যন্ত এদের খোঁজ মেলেনি।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রাখতে বলা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৭ মিলিমিটার।

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, চকরিয়া-মহেশখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল বারী বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, সব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দূযোর্গ কবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, সেনাবাহিনী যৌথভাবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও ব্রিজ সংস্কার শুরু করেছে।

বান্দরবানে ৩৮ জনের মৃত্যু

বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ১১ জনসহ মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে একই পরিবারের আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধাকর্মীরা। পরে আরও ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার সকাল ও মঙ্গলবার রাতে পর্যন্ত লামার ফাইটং ইউনিয়নে ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে কয়েকটি পাহাড় ধসে এসব প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে ফাইটংয়ে একই পরিবারের ১১ জনসহ ২৪ জন ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া লামার রূপসী পাড়া ইউনিয়নে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। দুপুর পৌনে ১টার পর উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়। ঘটনাস্থল দুর্গম হওয়ায় বুধবার সকালে দেরি করে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছায়।

ফাইটং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম ও বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাহাড় ধসের ঘটনায় সারা দেশের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামে ২২টি মৃতদেহ উদ্ধার

প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাহাড় ধসের ঘটনায় ২২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।

সর্বশেষ নগরীর খুলশি থানার আকবর শাহ এলাকায় সন্ধ্যায় মা ও তার দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকায় পাহাড় ধসে চাপা পড়া দুই ভাই-বোন সজিব (৩) ও আশামনি (২) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পরে তাদের মা সামিরার (২২) লাশও উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। সামিরা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আশরাফুলের স্ত্রী।

এর আগে খুলশী থানার উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের জালালাবাদ এলাকায় আঁধারমানিক পাহাড় ধসের ঘটনায় দুটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে দমকল বাহিনী। পাহাড়টি মঙ্গলবারের কোনো একসময় ধসে পড়ে। বুধবার দুপুরে এ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে আরও চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। এ চারজন হলেন জানু বেগম (৩৫), সুবর্ণা বেগম (১৯), রাবেয়া (১৫) ও তাজনীন (৪)। তারা সবাই একই পরিবারের।
 
বুধবার ভোর ছয়টা ২৫ মিনিটে দুই শিশুর লাশ মাটি খুড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো- কুলসুম (৭) ও ফাতেমা (৮) দুই বোন।

এছাড়া কাজল আখতার (৯) নামে আরও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ নগরীর খুলশি থানার আকবর শাহ এলাকায় সন্ধ্যায় মা ও তার দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

দমকল বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে নিহতে সংখ্যা ২২।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর আকবর শাহ মাজার এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা প্রায় ৩০টি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

এ পর্যন্ত শানু (১৬), অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলা, একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
   
বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন।

এদিকে, নগরীর খুলশী থানার বিশ্বকলোনী জয়ন্তিকা আবাসিক এলাকার পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- খালেক (৫৫), রাবেয়া বেগম (৬০) ও মাসুম (২), কুলসুম (৮) ও রমজান আলী (২৮)।

চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
চট্টগ্রামের বাঁশখালীকে পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনটি শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় জঙ্গল শিলকূপ ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির ইকবাল বাংলানিউজকে জানান, ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে মিনহাজুর রহমানের ৩ শিশু সন্তান নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, শহিদুল ইসলাম (১২), খোর্শেদা বেগম (৮) ও ফাতেমা বেগম (৪)।

অন্যদিকে বিকেলে নগরীর নাসিরাবাদ গার্লস স্কুলের পাশে একটি দেয়াল ধসে পড়ে একজন চাপা পড়েন।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভারি বর্ষণে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে শামসুল আলম (৪০) ও তার ছেলে ইয়াসিন (৬) নিহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিউল ইসলাম জানান, রাতের কোনো এক সময় পাহাড় ধসে তাদের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, জুন ২৭, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান